Thursday, 2 May 2019

কুন্তলদা

সদ্য অর্কূট খুলেছি... এই ধরুন ২০০৭ সাল হবে। কলেজে তখন সদ্য ভর্তি হয়েছি। তখন বাড়িতে নেট ছিলো না, কম্পিউটারও না। সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে ঘন্টাপ্রতি দশ টাকায় নেট করতে হতো। বড়োবাজারের কোহিনূর কাটার্সের পিছনের সাইবার ক্যাফেতে বসে প্রথম অ্যাকাউন্ট খুললাম। আমার বোনই খুলে দিয়েছিলো। সবাইকে বন্ধুত্ব অনুরোধ পাঠাচ্ছি। তখনই খুঁজে পাই কুন্তলদাকে, কুন্তল ব্যানার্জী। ভুল করে অন্য লোক ভেবে অ্যাড করেছিলাম। কলেজে আমার সাথে কুন্তল বলে একটা ছেলে পড়তো ... সায়ন্তীর সাথে মিউচুয়াল থাকায় ভেবেছিলাম এই সেই ছেলে। রিকু দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রায় অ্যাক্সেপ্ট করে। তারপরে বেশ কিছুদিন পরে জানতে পারি এ আমাদের ক্লাসের কুন্তল না। আমার থেকে সিনিয়র এবং বেশ অনেকটাই বড়ো।
২০০৯ নাগাদ বাড়িতে নেট কানেকশন আসে। ল্যাপটপও কিনে দেয় আব্বু। ততদিনে খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেছে কুন্তলদা। আর অানফ্রেন্ড করিনি।
আমরা একসঙ্গে ফার্মভিলা খেলতাম, সিটিভিলা খেলতাম... চ্যাট করতাম, গল্প করতাম নানা বিষয়ে। মূলত গল্পের বই নিয়েই। 
তারপর একদিন দেখাও করি। প্রথমবার যেবার দেখা করার কথা... আমি বেমালুম ভুলে গেছিলাম... ওদিকে কুন্তলদা হলদিরামের কাছে দাঁড়িয়ে আমার অপেক্ষায়... এদিকে আমি তখন ব্যান্ডেল পেরিয়ে বর্ধমানের দিকে। কুন্তলদা যখন আমাকে ফোন করে, তখন আর ফেরা সম্ভব না। কিছুই মনে করেনি কুন্তলদা... আমি কিন্তু খুবই লজ্জিত হয়েছিলাম। পরে অবশ্য দেখা হয়েছে বহুবার। রোগা, ফরসা, লম্বা , শান্ত ছেলেটা... 
কলকাতা যখন প্রথমবার আসি... কলকাতা আমার একদমই পছন্দ ছিলোনা। কুন্তলদার হাত ধরে প্রথম কলকাতা চেনা, কলকাতাকে ভালবাসতে শেখা। কলেজস্ট্রিট, কফিহাউস, প্যারামাউন্ট হয়ে কলেজস্কোয়ার... বৃষ্টির কলকাতায় কাঁচা আম খেতে খেতে এক ছাতার তলায় হাঁটতে হাঁটতে দুজনে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় নিয়ে আলোচনা করতাম। আমাদের দুজনেরই প্রিয় লেখক ছিলেন শীর্ষেন্দু আর সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। 
তারপর ছিলো ফুচকা খাওয়া... মোদ্দা কথা আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একজন ছিলো কুন্তলদা। বন্ধু, খেলার সাথী, কলকাতার সাথী। এইভাবেই দুটো বছর চলে যায়। আমার জীবনে আসে মাজহার। তার একেবারেই পছন্দ ছিলোনা কুন্তলদাকে। চ্যাট করলে কিংবা দেখা করলে সে ভীষণ রেগে যেতো... ঝগড়া করতো। কিন্তু তারপরেও আমি কুন্তলদার সংস্পর্শ ছাড়তে পারিনি। সেই কুন্তলদা চলে গেলো আইআইটি কানপুরে রসায়ন নিয়ে গবেষণা করতে । আদ্যান্ত ফুটবলপাগল, কবিতাপ্রেমিক ছেলেটা কলকাতা ছেড়ে চলে গেলো উত্তরপ্রদেশ। ততদিনে আমারোও পড়া শেষ... আমিও চলে গেলাম ব্যাঙ্গালোরে। কিন্তু দুজনের বন্ধুত্বে এতটুকু ভাঁটা পরেনি। প্রতিবছর জন্মদিনে আমার কাছে একটা আর্চিসের কার্ড আসতো... কোনোবার ভুল হয়নি। আমার মন খারাপ, ব্রেক আপ, জীবনের সব কঠিন সময়ে সে আমার পাশে থেকেছে। আমার ভাই বোনের সাথেও তার সুসম্পর্ক ছিলো। 
হঠাৎ করে ২০১৬ সালে জানতে পারি... কুন্তল ব্যানার্জী বলে আদতে কেউ নেই। একটা ফেক নামের প্রফাইলের পিছনে অন্য একটা মানুষ... আসল নাম অভি মুখার্জ্জী। আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি প্রথমে। কুন্তলদা নিজেই বলেছিলো তার আসল পরিচয় ... ক্ষমা চেয়েছিলো প্রায় দশবছর নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে রাখার জন্য। আমি ক্ষমা করেছিলাম... কারণ আমার কাছে নামটা নয়, মানুষটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। কুন্তল ব্যানার্জ্জী আমার জীবনের একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ছিলো। শুধু আমি তাকে বলেছিলাম পৃথিবীতে আর সবাই কি বলে ভাবে জানি না, আমি তোমাকে কুন্তলদা বলেই ডাকবো। 
অদ্ভুতভাবে, অভি মুখার্জ্জী ছেলেটা অালাদা... একদমই আলাদা। কুন্তল ব্যানার্জীর ধারে কাছেও আসেনা। অভি ব্যানার্জ্জী এখন সাম্প্রদায়িকতা সমর্থন করে, বিজেপি করে। 
ফেসবুকের মার্কামারা সাম্প্রদায়িকদের সাথে তার ওঠাবসা। গতকাল বিজেপির গোপন ফেসবুক গ্রুপের একটা screenshot এ কুন্তলদার কমেন্ট দেখে অবাক হলাম। 
এই কুন্তলদাকে আমি চিনতাম না, এ অভি মুখার্জ্জী। 
শীর্ষেন্দুপাগল মোহনবাগানী এই লোককে আমি চিনি না। শীর্ষেন্দুর কিশোর সাহিত্য প্রেমিক, শ্রীজাতর কবিতার বই উপহার দেওয়া , কলেজস্কোয়ারে বসে নবীগঞ্জের দৈত্য কিংবা আনন্দমেলা নিয়ে গল্প করা লোক আজ দাঙ্গা অস্ত্র নিয়ে আলোচনা করছে। মুসলমানদের কি করে জব্দ করা যায় তার প্ল্যান কষছে... 
হয়তো এ পোড়া দেশে কিছুই এসে যাবে না কারোর। কিন্তু কুন্তলদা বলতে অজ্ঞান ঊনিশ বছরের সেই মুসলমান মেয়েটির কাছে আর কুন্তলদার অস্তিত্ব নেই। শুধু আছে গলার কাছে জমে থাকা একদলা কষ্ট। কুন্তলদা এখন শুধুই বিজেপি সমর্থক ডক্টর অভি মুখার্জ্জী।

There is only one Earth, There is no Planet-B

সারা পৃথিবী জুড়ে ১.৫ মিলিয়ন বাচ্চা রাস্তায় নেমেছে। আমাদের পৃথিবীটার জন্য... যে পৃথিবীটাকে আমাদের মতো বড়োরা নষ্ট করে দিয়েছে কিংবা দিচ্ছে।
প্রথম ক্যাম্পেন শুরু করে সুইডেনের গ্রেটা, মাত্র ষোল বছরের সে বুঝে গেছে এই বিশাল মহাবিশ্বে আমাদের আর ঘর নেই... একটাই ঘর, সেটা আমাদের পৃথিবী। এটা নষ্ট করে দিলে কোথাও যাওয়ার জায়গা যে নেই আমরা সেটা না বুঝলেও, ওরা বুঝেছে। তাই রাস্তায় নেমে চীৎকার করছে এই পৃথিবীটা রক্ষা করতেই হবে।
এসব দেখে গলার কাছে দলা পাকানো কান্না জমে ওঠে... ভরসা জেগে ওঠে আবার। নাহ, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের থেকে একদম অন্যরকম। এরা পৃথিবীর কথা ভাবে, মানুষের কথা ভাবে। এরা আমাদের মতো যুদ্ধবাজ নয়, দ্বেষ নিয়ে বড়ো হয়নি।
পৃথিবী আজ হাজার হাজার গ্রেটাতে ভরে গেছে।
আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম পারবে এই সুন্দর পৃথিবীটাকে বাঁচাতে, তাদের পারতেই হবে।
There is only one Earth, There is no Planet-B.

নববর্ষ

তখনো আজকের মতো যান্ত্রিক হয়ে ওঠেনি পৃথিবীটা। আমার দোতলা বাড়ি থেকে আসিফ স্যারের বাড়ির নারকেল গাছগুলো তখন দেখা যেত ছাদে উঠলেই..... ক্লাবের সামনে কদম গাছটাও তখন পাতা নেড়ে নেড়ে নিজের খুশি জানাতো... এই তো জাস্ট কিছু বছর আগের কথা বলছি... সেই সময়ের গল্প যখন এক টাকায় তিনটে ফুচকা, দুটাকায় একটা বাপুজীর কেক, পঞ্চাশ পয়সায় রঙিন কাঠিওলা আইসক্রীম পাওয়া যেত.... স্কুলের গেটের সামনে আচার কাকু এক টাকায় এত্তোটা আলু কাবলি দিতো। তখন আমার কাছে একটা টাকা মানে অনেক টাকা.... এক টাকায় অনেক জলছবি পাওয়া যেত... পানি দিয়ে ঘষে আস্তে করে কাগজটা তুললেই রং বেরং এর গল্প ফুটে উঠতো পাতায়।
আমার আব্বু তখন বেশ গরীব, ছাপোষা মধ্যবিত্ত যে কিনা তিন ছেলে মেয়ের লেখাপড়া, আব্বা মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমসিম। চাষবাস করে কতো আর ইনকাম, তাই শহরে থাকা সব কিছুই কিনে খাওয়া।
আমরা বেশ ভালো স্কুলেই পড়তাম, বর্ধমানের সেরা সরকারি স্কুল.... সেরকম খরচা ছিলো না তারপরেও বইখাতা , তবলার স্যার, আঁকার সরঞ্জাম, গানের স্যার , জিমন্যাস্টিক সবের খরচা চালাতে চালাতে আমার আব্বুটা বেশ গরীব! একটা বিলাসিতা করারও টাকা নেই। একটু দূরে কারোর বাড়ি যেতে হলে হেঁটেই যেতে হবে.... পনেরো টাকা রিকশা ভাড়া অনেক! আমার সদ্য হাঁটতে শেখা ভাইটা হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে আব্বু আম্মুর হাত ধরে ঝুলতে ঝুলতে যাচ্ছে!!! এই তো সেদিনের কথা।
মোট কথা তখন আমরা বেশ গরীব।
আমার আম্মু একজন অসাধারণ মহিলা। অন্নপূর্ণা বলতে যা বোঝায় ঠিক তেমনি। কপালে লাল একটা টিপ, হাতে দুগাছা সোনা বাঁধানো পলা। আমার আম্মু গৃহবধু.... সারাদিন ঘরের কাজ , রান্নাবান্না, তারপর আমাদের পড়ানো! তখন আমাদের বাড়িতে কাজের লোক নেই, ছুটির দিনে আমি আর নিউ দুটো করে চারটে ঘর মুছতাম, বাকিটা আম্মু! কতই বা বয়স হবে তখন দশ কি বারো কিংবা আরো ছোটো।
বার্ষিক পরীক্ষার পরে একমাস ছুটি.... সেই সময়টাতেই নববর্ষ আসতো হৈ হৈ করে। আমাদের বর্ধমানে একমাস ধরে চৈত্র সেল চলে। সেকি হৈ হৈ ব্যাপার! রাস্তায় বেরোনো মুশকিল। আমার আম্মু চৈত্রসেলের শেষ দিনে দুই বোনের জন্য দুটো ফ্রীল দেওয়া ফ্রক কিংবা অ্যালান ফ্রক কিনে দিতো। হাল্কা মিষ্টি রঙের। সারা বছর ধরে একটাকা দুটাকা করে জমিয়ে বছর শেষে আমার গৃহবধু আম্মুটা ছেলে মেয়েদের জন্য জামা কিনতো, আব্বুকে অনেক সময় না জানিয়েই।
আহা, নববর্ষের দিন নতুন জামা গায়ে ঠেকাতে হয় যে। অনেক ঘুরে ঘুরে সস্তাতে সুন্দর জামা হতো যেখানে , সেখান থেকেই নতুন জামা কেনা হতো। আমরা নতুন জামার আনন্দে উৎফুল্ল। এদিকে জানতেও পারলাম না আমার আব্বু আম্মু কিন্তু পুরোনো জামা পরেই নববর্ষ করছে।
নববর্ষের দিন গ্রামে আমাদের পুকুরে জাল ফেলা হতো। ঐদিন মাছ বিক্রী করলে একটু বেশি টাকা পাওয়া যাবে এই আশায়! ভোরবেলা কমলাদাদা এসে ঝুড়িতে করে মাছ ফেলতো সদর দরজার কাছে ছোটো কলের মুখে। আম্মু মাছ বাছছে ইঁটে ঘষে ঘষে, আমিও বড়ো হওয়া প্রমাণের চেষ্টায় হেল্প করার চেষ্টা করতাম মাঝেমধ্যে। সকালে আম্মু ঘুম থেকে তুলে দিয়েই হারমোনিয়ামটা বের করে দিতো। নববর্ষের দিনে গানের রেওয়াজ মাস্ট আর তারপর বাংলা পাঠ্যবইয়ের কবিতা পাঠ। ঐদিন নাকি গান না গাইলে বা বই না খুললে সারা বছর আর পড়াশুনা হবেনা! দেবী সরস্বতী পালিয়ে যাবে!!! যদিও বছরে দুবার নববর্ষেই আম্মু একই কথা বলতো!
আমরা দুবোনে শুরু করতাম এসো হে বৈশাখ গান দিয়ে, প্রতিবছর। তারপর গানের রেওয়াজ শেষ হলে স্নান করে নতুন জামা। সেদিন বাড়িতে ভালো কিছু খাবার বানানো হবেই, পোলাও,মাছের কালিয়া , মিষ্টি, হোয়াইট হাউসের দৈ এরকম অনেক কিছু।
বিকেলে আরো মজা... হাল খাতার নেমন্তন্ন দোকানে দোকানে। আব্বু আম্মুর সাথে বেরিয়ে পড়তাম নেমন্তন্ন রক্ষা করতে... কোনো কোনো দোকান আবার কোল্ড ড্রিংকস খাওয়াতো... বাকিরা সরবৎ, কেউবা ডাবের পানি। তখন কোল্ড ড্রিংকস মানে বিশাল একটা ব্যাপার। মিষ্টির প্যাকেট আর ক্যালেন্ডারে ভরে যেতো খাওয়ার টেবিলটা।
আমরা প্যাকেট খুলে খুলে ভালো ভালো মিষ্টিগুলো হাপিশ করে দিতাম লুকিয়ে লুকিয়ে।
এখন অনেক বড়ো হয়ে গেছি... জীবনযাত্রার মান বদলে গেছে।
এখন আম্মু আব্বু নয়, আমিই নববর্ষে নতুন জামা কিনে দিই ওঁদের। কমলাদাদাও এবছর মারা গেছেন। আমাদের পুকুরে জাল ফেলার জন্য অন্য গ্রাম থেকে লোক আনতে হয়.... এখন আমাদের একটা ছোট্ট মাছের আড়ৎ হয়েছে যেখানে হালখাতা হয়... সে আর এক নতুন গল্প।
আর আমাদের শৈশবের হাল খাতার মতো উৎসাহ আর নেই। পরিবর্তনের হাওয়ায় ফুটপাতের সেলের জামার বদলে স্থান পেয়েছে প্যান্টালুনস, ব্র্যান্ড ফ্যাক্টরি। যুগের হাওয়ায় ভেসে গেছি আমরাও... তবু আমার মফস্বল শহরটাতে প্রতিবার বৈশাখ আসে... লাল দড়িতে বাঁধা নতুন খাতা, আমপাতার গন্ধে মিলেমিশে যায় আমার শহরের প্রতিটা অলিগলি। এখনো আমরা নতুন জামা পরি , হালখাতার নেমন্তন্ন খেতে যাই... শুধু আমার আম্মুর এক এক করে কষ্টের জমানো টাকায় নতুন জামার ঘ্রাণ আর পাইনা। আমরা বড়ো হয়ে গেছি... আসলেই অনেকটা বড়ো।
অনেকগুলো নববর্ষ পেরিয়ে আরো একটা নতুন বছর এসেছে।
শুভ নববর্ষ সবাইকে... ভীষণ ভালো কাটুক আগামী বছরটা।
দুবছর আগে লিখেছিলাম।

গজালে

আমার খালামণির বাড়ি নলডাঙা। সেখানে হরেকরকম মজার লোক আছে। প্রায় প্রতি গ্রামেই এইরকম মজার লোক থাকে। এরকমই একজন হলো গজাল। গজালের নাম গজাল কেন জানিনা। ভাইয়ের নাম সম্ভবত পেরেক। 
যাগগে, গজালকে ছেলেবুড়ো সবাই আদর করে গজালে বলে। গজালের বোধবুদ্ধি বেশ কম... শিশুদের ন্যায় বলা যায়। তা সেই গজালেকে একবার দায়িত্ব দেওয়া হলো বর্ধমানে গরু নিয়ে যাওয়ার। বাঁকুড়া মোড়ের কাছে সে আমাদের মুনিশকে গরু দিয়ে আম্মুর ছাগলকে গজালের হাতে ট্রান্সফার করবে। 
আমাদের গ্রামে ছাগলের যত্ন আত্তি হচ্ছে না বলে ছাগলকে খালামণির বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা হচ্ছে। ছাগলের বাচ্চা কাচ্চাও হচ্ছে না। আম্মু খুবই চিন্তিত। আম্মু সেই কবে কোন যুগে নব্বই টাকা দিয়ে একটা ছাগীছানা কিনেছিলো... তার ছানাপোনা বেড়ে বেশ অনেকগুলো হয়েছে। আম্মু গ্রামের গরীব লোকজনকে এই ছাগলের ছানাদের ভাগে দেয়। খাসী হলে কালিপুজো কিংবা বকরিদের সময় বিক্রি করে দেওয়া হয়।
মাঝেমধ্যে আম্মু গ্রামে গেলে লোকজন ছাগলদের দেখাতে নিয়ে আসে আম্মুর কাছে।
যাগগে, গজালে গরু আনছে... আর এদিক হতে আমাদের মুনিশকাকু ছাগল নিয়ে যাচ্ছে। যথাসময়ে দুজনের দেখা হলো...
এবার অদলবদলের পালা। হঠাৎ করে গজালে বেঁকে বসলো। সে কিছুতেই গরুর বদলে ছাগল দেবে না।
সে বলছে "আমাকে বোকা পেইচো অ্যাঁ? গরুর বদলে ছাগল আমি দিবোনা কিচুতেই। গরুর দাম বেশি, ছাগলের দাম কম।"
অনেক কষ্টে শেষে তাকে বোঝানো গেলো গরু ছাগলের মালিক একজনই... এখানে গরুর বদলে ছাগল বিক্রি করা হচ্ছে না।
তা সেই গজালের বিয়ে। গজাল খুবই খুশী।
সারাদিন অনুষ্ঠান হওয়ার পরে গজালে নতুন বউয়ের জন্য একটা আপেল আর ছুরি নিয়ে বাসরঘরে ঢুকলো।
বাসরঘরে ঢুকে সে বউকে সারপ্রাইজ দেবে আপেল দিয়ে। তাই সে কি করলো ছুরিটা একহাতে নিয়ে আপেলটা অন্যহাতে পিছনে নিয়ে (যাতে বউ দেখতে না পায়) দরজার ছিটকিনি তুলছে। এদিকে বউ দেখছে হাতে ছুরি নিয়ে গজালে দরজায় খিল দিচ্ছে। বউ ভাবছে গজালে তাকে খুন করতে আসছে। বউ যত চেঁচাচ্ছে... গজালেও চেঁচাচ্ছে ছুরি না আপেল আপেল করে।
বউ জানের ডাহায় ওসব শুনবে কেন? শেষে বউ কোনোক্রমে দরজা খুলে পালিয়ে যায়। এই বউ আর ফিরে আসেনি।

সবেবরাত, ইবাদতের রাত

সবেবরাত, ইবাদতের রাত। আম্মু বলে আজকে গভীর রাতে নাকি গাছেরাও সিজদা করে। সে এক অদ্ভুত দৃশ্য। সে দৃশ্য সবাই নাকি দেখতে পায় না। খুব আমলদার ইমানদার ভাগ্যবান রাই দেখতে পায়। ছোটো বেলায় একবার সারা রাত জেগে বসে থাকার চেষ্টা করেছিলাম। পেলামই না দেখতে। অতো ভাগ্যি বোধহয় নেই, তার উপর আল্লাহ মিঞার খুব একটা প্রয়ি নই, সেটা লাস্ট কিছু বছরে পরিস্কার বুঝে গেছি। আম্মু বলে আল্লাহর নির্দেশে সবেবরাতের রাতে ফেরেস্তারা আসেন সারা বছরের ভাগ্য লিখতে। লাস্ট বছর হেব্বি খারাপ ভাগ্য লিখছিলেন ভদ্রলোকেরা , আই মিন টু সে, ভদ্রফেরেস্তারা। লিখবার আগে একটু ভাবেনিকো! যা মন গেছে লিখে দিয়েছেন। যাই হোক কি আর করবো , ভেবে মেনে নিয়েছিলাম অগত্যা। এবারে আশা করছি একটু ভালো লিখবেন! রিকোয়েস্ট করে নিয়েছি ভালো করে।
সবেবরাতের সাথে আমার ছোট্ট বেলা জড়িয়ে, কি ভালো দিন ছিল! আমার দাদাভাই সবেবরাতের দিন অনেক রকম বাজী আনতেন। সাপ, রসবাতি, রকেট, ফুলঝুড়ি, চড়কি আরো কত্তোরকম। কিন্তু কোনো শব্দবাজী কোনোদিন আনতেন না। আর আনতেন অনেক রকম মোমবাত্তি। আমরা তিন ভাইবোন সকাল থেকে অপেক্ষা করতাম কখন সন্ধে হবে আর আমরা সবাই মিলে বাজী পোড়াবো, মোমবাত্তি জ্বালাবো। আব্বু আনত তুবড়ি। বড়ো, মেজো , ছোটো তুবড়ি।
সন্ধে হলেই সারা বাড়িটা মোমের আলোয় উদ্ভাসিত।লাইট অফ করে দেওয়া হতো। আমাদের পুরোনো বাড়িটার আনাচে কানাচে জমাট অন্ধকারে মোমের আলো মায়াবী, গা ছম্ছমে পরিবেশ সৃষ্টি হতো। কখনো কখনো তীব্র হাওয়া এসে মোমবাতি নিভিয়ে চলে যেতো, আবার প্রথম থেকে জ্বালানো শুরু। মুরুব্বীরা বলেন, আজকের দিনে আল্লাহর কাছ থেকে আমাদের মৃত পূর্বপুরুষগণ ছুটি পান, নিজের নিজের বাড়ি আসেন এটা দেখতে যে তাদের পি্রয়জনরা কেমন আছে। তাই সব্বাই যেন মিলেমিশে থাকে, কোনো ঝগড়াঝাঁটি নয়, রাগারাগি নয়! নইলে তেনারা কষ্ট পাবেন।
বাজী পোড়ানো শুরু। প্রথমে ফুলঝুড়ি, তারপর সাপ, চড়কি... এক্কেবারে লাস্টে তুবড়ি। তুবড়ি আমরা জ্বালাতে পারতাম না, ওটা আব্বুর দায়িত্ব ছিলো। কি সুন্দর হুস করে অ্যাত্তোবড়ো ফোয়ারার মতো ফুলকি। আম্মু বলতো সরে আয়, সরে আয়, গায়ে পড়বে, পুড়ে যাবে। আমরা ভয়ে আনন্দে লাফাতে লাফাতে সরে আসতাম। এবার আমার তুবড়িটা জ্বালাতে হবে বায়না তিন জনেরই। যার টা ভালো আর বেশি উচ্চতায় যেতো সে নিজেকে বিজয়ী ভেবে গর্বিত। কার টা বেশি ভালো জ্বলেছে তা নিয়ে তর্ক। আব্বু-আম্মুকে বিচারক করে উৎসুক তিন জনাই। সব থেকে কঠিন বিচার পিতামাতার, কোন সন্তানকে নিরাশ করবে! শেষে সিদ্ধান্তগ্রহণ করতো তিন জনের তুবড়ি সমান জ্বলেছে। সব্বাই বিজয়ী।
সবেবরাতে আমাদের বাড়িতে গরীব মানুষজনদের আম্মু বিরিয়ানি বা পোলাও রান্না করে বিতরণ করে। একতলার বারান্দায় লাইন করে লোকজন খাবার, টাকা নিয়ে যায়। গোল থামে হেলান দিয়ে দেখতাম আম্মুর ধৈর্য। এক এক করে সবাইকে সমান খাবার দিয়ে যাচ্ছে।
এইদিন আমাদের বাড়িতে চালের আটার রুটি আর নানান রকমের হালুয়া হতো। আমার আম্মু ভীষণ ভালো হালুয়া বানায়, এক কথায় অসাধারণ। পাড়ার লোকজনদের সাথে হালুয়া , রুটি আদানপ্রদান চলতো। হাতে বোনা কুরুশের ফুল তোলা ঝালড় তোলা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে বাড়ি বাড়ি হালুয়া দিয়ে আসতাম আমি আর নিউ। এখন সবাই ব্যস্ত, এই পুরোনো মিষ্টি রেওয়াজ গুলো আস্তেআস্তে লুপ্ত হয়ে আসছে। আজকের সারারাত আম্মু নামাজ পড়বে, দোয়া চাইবে, আম্মুর মতো অনেকেই নামাজ পড়বেন। বাড়িতে বাড়িতে দোয়া চাওয়া হবে, মোমবাতির আলোয় উদ্ভসিত হবে গরীব হতে বড়োলোকের বাড়ি।
আল্লাহ গো আজকে যেন সবার কপাল ভালো লিখো। হালুয়া না হোক পেটে খাবার নসিব যেন হয় এই পৃথিবীর অগুন্তি গরীব মানুষজনদের। নামাজ পড়িনি, নিয়ত্ ভালো রেখে চাইছি। জানি তোমার যতটা সম্ভব তুমি করবে। সবাইকে ভালো রেখো, আর এই মেয়েটার কথা একটু ভেবো।
আমিন।
চারবছর আগে লিখেছিলাম... 😊
এখন বোধহয় এটা আর হাত দিয়ে নামবে না।

পিউয়ের পোষ্যরা ১

হঠাৎ এক চৈত্রমাসের কোনো এক সপ্তাহে দাদাভাই আমাদের দুইবোনকে দুটো টিয়াপাখির ছানা কিনে দিলেন। এই এত্তোটুকুন... তুলোর মতো সাদা সাদা নরম লোম সারা গায়ে... মাঝেসাঝে সবুজ পালক। তখনো পালক গজায়নি পুরোপুরি, গোলাপী চামড়া দৃশ্যমান... চোখ ফুটেছে মাত্র,লাল টুকটুকে ঠোঁট ! পাখিওলা রাস্তা দিয়ে পাখি নিয়ে যাচ্ছিলো... তা দেখে আমার বায়না পাখি কিনবো।
মায়ের কোল থেকে পাখিওলা তুলে এনেছে দুটো পয়সার লোভে। আহা রে জীবন... দুটো পয়সার জন্য কত কি করতে হয় মানুষকে।
বাচ্চা দুটো খেতে পারে না নিজে নিজে... পাখিওলা বললো মুসুর ডাল ভিজিয়ে খাওয়াবেন। আমরা তাই করলাম। সেই সময় টুটুদিদিরা এসেছে আমাদের বাড়ি। তাই অনেক লোকজন পুরো বাড়িতে। আত্মীয় স্বজনরা সব দেখা করতে এসেছে। টুটুদিদি আমার বড়োফুফুমণির মেয়ে। জিজু চাকরি করেন এয়ারফোর্সে। এই শক্তপোক্ত চেহারা,শক্তিমান.....বিকানিরে থাকেন। সেই জিজু আমাদের সবার খুব প্রিয়। তিনি বললেন বাচ্চাদুটোর নাম রাখতে হবে তো? কিছু নাম ঠিক করলে তোমরা? আমরা দুই বোন বললাম আপনিই ঠিক করুন। উনি নাম রাখলেন মিকি মাউস আর নিকি ন্যাপচুন। আমাদেরও খুব পছন্দ হলো নাম দুটো।
কিছুদিন পরে নিকি ন্যাপচুনের হঠাৎ করেই শরীর খারাপ, খাবার হজম করতে পারছে না। মুসুর ডাল হজম করার ক্ষমতা নেই অতোটুকু বাচ্চাদের। মিকিও অসুস্থ...পয়লা বৈশাখের দিন বাড়িতে বিশাল হৈ চৈ.. বাবুর্চি রান্না করছে । এমন সময় নিকি ন্যাপচুন মরে গেলো। আমার সে কি বুক ফাটা কান্না। খুব কেঁদেছিলাম... আমার বুকের ভিতরটা যেন ছিঁড়ে নিয়েছিলো কেউ.. আম্মু দাদাভাই সবাই সান্ত্বনা দিচ্ছে!
আত্মীয় স্বজনরা বুঝতে পারছে না একটা সামান্য পাখির জন্য কেন এতো কান্নাকাটি... এদিকে মিকিও অসুস্থ... মুসুর ডাল হজমের ক্ষমতা তার নেই।
শেষে ড্রপে করে তাকে দুধ খাওয়াতে শুরু করলাম। কদিন পরে আমার মিকি সুস্থ হলো। তার পালক গজানো শুরু হলো... মিকি আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে। মা ভাবে কিনা জানিনা... কিন্তু সে আমার ঘাড়ে, মাথায় চড়ে ঘুরে বেড়ায়। খাঁচায় থাকার কোনো শখ তার নেই।
এদিকে বাড়িতে অনেক বেড়াল। সামনে ইয়াদের বাড়িতে অনেক বিড়াল আছে। তারা আমাদের বাড়ি এসে বসে থাকে। ডাস্টবিন উল্টিয়ে মাছের কাঁটা খায়।
অগত্যা মিকিকে খাঁচায় রাখতে হবেই... মিকি থাকবে কেন?
সে ঠোঁটে করে খাঁচার শিক বেঁকিয়ে বেরিয়ে যায়! কিছুতে তাকে বাগে আনা যায়না। আম্মু দাদি দুজনেই বলে যেমন মনিব, তেমন তার পাখি! দুটোই গেছো এবং বদমাশ!
এমন করে বেড়োতে গিয়ে হঠাৎ একদিন মিকির একটা পাখায় আঘাত লেগে হাড় সরে গেলো। সে চেষ্টা করলেও আর সারেনি। মিকি আর ভালো উড়তে শিখতে পারলো না । অল্প বিস্তর কাজ চালানোর মতো উড়তে পারে।
সেই মিকি প্রথম কথা শিখলো "এ পিউ"
আমাকে মনে পরলে কিংবা দেখতে পেলেই সুর করে ডাকে "এ পিউ... মিক মিক মিকি।" মানে এ পিউ, মিকি তোকে ডাকছে।
কখনো শিষ দিয়ে বলে "এ পিউ... মিক মিক মিকি।"
কোনো অপরিচিত এলে চীৎকার "কে কে কে?"
কোনো অপরিচিত মানুষ বাড়িতে এসে বাড়ির কোনো কিছুতে হাত দিলে চীৎকার করে পাড়া মাত করে।
আমি যখন হারমোনিয়ামে রেওয়াজ করি আমার সঙ্গে সুর করে
গায় "আয় তবে সহচরী।"
আম্মু আমাকে মারলে বা বকলে মিকি জোরে জোরে আম্মুকে বকে দেয়। আমার ক্ষেত্রে মিকি সাংঘাতিক রক্ষণশীল। সে কাউকে বকতে দেবে না, মারতে দেবে না। আমার উপর একমাত্র তার অধিকার।
আমাকে সে কামড়ায়না, আঁচড়ায়না। বাকিদের কামড়ে আঁচড়ে রক্ত বের করে দেয়! দাদি খেতে দিতে গিয়ে কামড় খেয়ে বলতেন "বদ পাখি কোথাকার, আর খেতে দেবো না! "
মিকি চোখ পাকিয়ে আবার ঠুকরে দেয়। মিকি আমার সর্বস্ব, সে আমার জান।
আব্বু মজা করে মিকিকে নাতি ডাকে... আর বলে শ্বশুড়বাড়ি গেলে মিকিকে আমার সঙ্গে দেবে!
(চলবে)

দুনিয়ার সব শাহরুখ ভক্তরা এক হও

আজকে তৌসিফের এক কলিগের ফেয়ারওয়েল ছিলো। লোকটি চীন দেশের লোক, নাম ইয়াং।
ইয়াং ফিজিক্সের একজন ভালো গবেষক এবং খুব ভালো ছবি তোলে। চীন সরকার ইয়াংকে মোটা টাকা মাইনে দিয়ে প্রফেসর পদ অফার করেছে । তিরিশ শতাংশ মূল্য দিয়ে বাড়ি কেনা এবং অন্যান্য অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, তাকে পর্যাপ্ত ছুটি এবং বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ভিজিটের জন্যও ফান্ডিং করবে বলেছে। মোট কথা, খুবই ভালো অফার। ইয়াং এর তাই মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে চীনে চলে যাচ্ছে।
সেই ইয়াং আজকে পার্টি দিয়েছিলো একটা গ্রীক রেঁস্তোরায়। যার যা ইচ্ছা খাবার অর্ডার... সবাই ওর অফিসের এবং গ্রুপের লোক.. একমাত্র আমিই বহিরাগত এবং অবশ্যই পদার্থবিদ নই।
আমার সাথে তৌসিফের প্রায় সব কলিগের পরিচয় আছে এবং যথারীতি গাছের আম থেকে অ্যামাজনের পোকা সব নিয়েই আলোচনা হয়। তৌসিফ চুপচাপ শোনে... নতুন লোকে ভাবতে পারে যে এরা আমারই কলিগ.. তৌসিফ নিমন্ত্রিত। ভাবাটা মোটেই আশ্চর্যজনক হবে না।
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের ডাইরেক্টর তথা তৌসিফের জার্মান হোস্টকে আজকে খেজুর গুড় এবং ছানা তৈরীর পদ্ধতি নিয়ে জ্ঞান বিতরণ করেছি... তিনি গুড় এবং বাঙালী মিষ্টির বিবরণ শুনে সাংঘাতিক ইমপ্রেসড। ভারত যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ অবধি প্রকাশ করেছেন। তৌসিফের অস্ট্রিয়ান কলিগ খেজুর রসের মদ খেতে সাংঘাতিক ইন্টারেস্টেড হয়েছে।
তো আলোচনায় ফা-হিয়েন, হিউ এন সাঙ থেকে আরম্ভ করে তৈমুর লং, মেগাস্থিনিস হয়ে দলাই লামা , বুদ্ধ (ভট্টাচার্য্য নয়) সবই এসেছে।
চীনের মাইথোলজি, অস্ট্রিয়ার রাজনীতি, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, ইউরোপের রিফিউজি সমস্যা সবই আলোচ্য বিষয় ছিলো।
মোদ্দা কথা লাদাখের দুই কুঁজওলা উট থেকে আরম্ভ করে মিশরের নীলনদ সব নিয়েই গুরু গম্ভীর আলোচনা হয়েছে।
তবে অবশ্যই ফিজিক্স বাদ... আমি থাকতে ফিজিক্স নিয়ে আলোচনা কখনোই হতে পারে না!
এমন অবস্থায় আর একজন চীনা হঠাৎ জিজ্ঞাসা করলো আমি দেবদাস দেখেছি না! ব্যস... আবার কি! গুরু চলে এসেছে আলোচনায়..দেবদাস নিয়ে ছোকরা সাংঘাতিক ইমপ্রেসড। সে আবার শাহরুখ খানের তুমুল ভক্ত। তার উদ্দীপনা দেখে অস্ট্রিয়ান ছেলেটা সিনেমার নাম লিখে নিলো যাতে সে পরে সিনেমাটা দেখতে পারে! এই সুযোগে টুক করে আমি শরৎচন্দ্র এবং বাংলার সাহিত্য নিয়ে পাঁচ মিনিটের টক দিয়ে দিলাম।
এইভাবেই আমরা একদিন চীন এবং বাকি দেশের সাথে যুদ্ধ মেটাবো ইনসাল্লাহ!
শাহরুখ খানের ভক্তরা মিলে সব যুদ্ধ, বিগ্রহ , রাগারাগি মিটিয়ে বিপ্লব আনবো দেশে দেশে!
কোনো এক পুণ্য প্রাতেঃ দুনিয়ার সব শাহরুখ ভক্তরা এক হও স্লোগানে মুখরিত হবে পৃথিবীর প্রতিটি কোণ।
শাহরুখ দীর্ঘজীবি হোক। 😍
ও হ্যাঁ, চীনে যেতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইয়াং। আমি তাকে আশ্বস্ত করেছি তৌসিফ অবশ্যই চীনে যাবে.. না গেলে আমি ঘাড় ধরে তৌসিফকে বিশ্ববিদ্যালয়ে টক দেওয়াতে নিয়ে যাবো.. আর সেই সুযোগে টুক করে চীন দেশ ঘুরে নেবো। 🤪