আমার খালামণির বাড়ি নলডাঙা। সেখানে হরেকরকম মজার লোক আছে। প্রায় প্রতি গ্রামেই এইরকম মজার লোক থাকে। এরকমই একজন হলো গজাল। গজালের নাম গজাল কেন জানিনা। ভাইয়ের নাম সম্ভবত পেরেক।
যাগগে, গজালকে ছেলেবুড়ো সবাই আদর করে গজালে বলে। গজালের বোধবুদ্ধি বেশ কম... শিশুদের ন্যায় বলা যায়। তা সেই গজালেকে একবার দায়িত্ব দেওয়া হলো বর্ধমানে গরু নিয়ে যাওয়ার। বাঁকুড়া মোড়ের কাছে সে আমাদের মুনিশকে গরু দিয়ে আম্মুর ছাগলকে গজালের হাতে ট্রান্সফার করবে।
আমাদের গ্রামে ছাগলের যত্ন আত্তি হচ্ছে না বলে ছাগলকে খালামণির বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা হচ্ছে। ছাগলের বাচ্চা কাচ্চাও হচ্ছে না। আম্মু খুবই চিন্তিত। আম্মু সেই কবে কোন যুগে নব্বই টাকা দিয়ে একটা ছাগীছানা কিনেছিলো... তার ছানাপোনা বেড়ে বেশ অনেকগুলো হয়েছে। আম্মু গ্রামের গরীব লোকজনকে এই ছাগলের ছানাদের ভাগে দেয়। খাসী হলে কালিপুজো কিংবা বকরিদের সময় বিক্রি করে দেওয়া হয়।
মাঝেমধ্যে আম্মু গ্রামে গেলে লোকজন ছাগলদের দেখাতে নিয়ে আসে আম্মুর কাছে।
যাগগে, গজালে গরু আনছে... আর এদিক হতে আমাদের মুনিশকাকু ছাগল নিয়ে যাচ্ছে। যথাসময়ে দুজনের দেখা হলো...
এবার অদলবদলের পালা। হঠাৎ করে গজালে বেঁকে বসলো। সে কিছুতেই গরুর বদলে ছাগল দেবে না।
সে বলছে "আমাকে বোকা পেইচো অ্যাঁ? গরুর বদলে ছাগল আমি দিবোনা কিচুতেই। গরুর দাম বেশি, ছাগলের দাম কম।"
অনেক কষ্টে শেষে তাকে বোঝানো গেলো গরু ছাগলের মালিক একজনই... এখানে গরুর বদলে ছাগল বিক্রি করা হচ্ছে না।
তা সেই গজালের বিয়ে। গজাল খুবই খুশী।
সারাদিন অনুষ্ঠান হওয়ার পরে গজালে নতুন বউয়ের জন্য একটা আপেল আর ছুরি নিয়ে বাসরঘরে ঢুকলো।
বাসরঘরে ঢুকে সে বউকে সারপ্রাইজ দেবে আপেল দিয়ে। তাই সে কি করলো ছুরিটা একহাতে নিয়ে আপেলটা অন্যহাতে পিছনে নিয়ে (যাতে বউ দেখতে না পায়) দরজার ছিটকিনি তুলছে। এদিকে বউ দেখছে হাতে ছুরি নিয়ে গজালে দরজায় খিল দিচ্ছে। বউ ভাবছে গজালে তাকে খুন করতে আসছে। বউ যত চেঁচাচ্ছে... গজালেও চেঁচাচ্ছে ছুরি না আপেল আপেল করে।
বউ জানের ডাহায় ওসব শুনবে কেন? শেষে বউ কোনোক্রমে দরজা খুলে পালিয়ে যায়। এই বউ আর ফিরে আসেনি।
Thursday, 2 May 2019
সবেবরাত, ইবাদতের রাত
সবেবরাত, ইবাদতের রাত। আম্মু বলে আজকে গভীর রাতে নাকি গাছেরাও সিজদা করে। সে এক অদ্ভুত দৃশ্য। সে দৃশ্য সবাই নাকি দেখতে পায় না। খুব আমলদার ইমানদার ভাগ্যবান রাই দেখতে পায়। ছোটো বেলায় একবার সারা রাত জেগে বসে থাকার চেষ্টা করেছিলাম। পেলামই না দেখতে। অতো ভাগ্যি বোধহয় নেই, তার উপর আল্লাহ মিঞার খুব একটা প্রয়ি নই, সেটা লাস্ট কিছু বছরে পরিস্কার বুঝে গেছি। আম্মু বলে আল্লাহর নির্দেশে সবেবরাতের রাতে ফেরেস্তারা আসেন সারা বছরের ভাগ্য লিখতে। লাস্ট বছর হেব্বি খারাপ ভাগ্য লিখছিলেন ভদ্রলোকেরা , আই মিন টু সে, ভদ্রফেরেস্তারা। লিখবার আগে একটু ভাবেনিকো! যা মন গেছে লিখে দিয়েছেন। যাই হোক কি আর করবো , ভেবে মেনে নিয়েছিলাম অগত্যা। এবারে আশা করছি একটু ভালো লিখবেন! রিকোয়েস্ট করে নিয়েছি ভালো করে।
সবেবরাতের সাথে আমার ছোট্ট বেলা জড়িয়ে, কি ভালো দিন ছিল! আমার দাদাভাই সবেবরাতের দিন অনেক রকম বাজী আনতেন। সাপ, রসবাতি, রকেট, ফুলঝুড়ি, চড়কি আরো কত্তোরকম। কিন্তু কোনো শব্দবাজী কোনোদিন আনতেন না। আর আনতেন অনেক রকম মোমবাত্তি। আমরা তিন ভাইবোন সকাল থেকে অপেক্ষা করতাম কখন সন্ধে হবে আর আমরা সবাই মিলে বাজী পোড়াবো, মোমবাত্তি জ্বালাবো। আব্বু আনত তুবড়ি। বড়ো, মেজো , ছোটো তুবড়ি।
সন্ধে হলেই সারা বাড়িটা মোমের আলোয় উদ্ভাসিত।লাইট অফ করে দেওয়া হতো। আমাদের পুরোনো বাড়িটার আনাচে কানাচে জমাট অন্ধকারে মোমের আলো মায়াবী, গা ছম্ছমে পরিবেশ সৃষ্টি হতো। কখনো কখনো তীব্র হাওয়া এসে মোমবাতি নিভিয়ে চলে যেতো, আবার প্রথম থেকে জ্বালানো শুরু। মুরুব্বীরা বলেন, আজকের দিনে আল্লাহর কাছ থেকে আমাদের মৃত পূর্বপুরুষগণ ছুটি পান, নিজের নিজের বাড়ি আসেন এটা দেখতে যে তাদের পি্রয়জনরা কেমন আছে। তাই সব্বাই যেন মিলেমিশে থাকে, কোনো ঝগড়াঝাঁটি নয়, রাগারাগি নয়! নইলে তেনারা কষ্ট পাবেন।
বাজী পোড়ানো শুরু। প্রথমে ফুলঝুড়ি, তারপর সাপ, চড়কি... এক্কেবারে লাস্টে তুবড়ি। তুবড়ি আমরা জ্বালাতে পারতাম না, ওটা আব্বুর দায়িত্ব ছিলো। কি সুন্দর হুস করে অ্যাত্তোবড়ো ফোয়ারার মতো ফুলকি। আম্মু বলতো সরে আয়, সরে আয়, গায়ে পড়বে, পুড়ে যাবে। আমরা ভয়ে আনন্দে লাফাতে লাফাতে সরে আসতাম। এবার আমার তুবড়িটা জ্বালাতে হবে বায়না তিন জনেরই। যার টা ভালো আর বেশি উচ্চতায় যেতো সে নিজেকে বিজয়ী ভেবে গর্বিত। কার টা বেশি ভালো জ্বলেছে তা নিয়ে তর্ক। আব্বু-আম্মুকে বিচারক করে উৎসুক তিন জনাই। সব থেকে কঠিন বিচার পিতামাতার, কোন সন্তানকে নিরাশ করবে! শেষে সিদ্ধান্তগ্রহণ করতো তিন জনের তুবড়ি সমান জ্বলেছে। সব্বাই বিজয়ী।
সন্ধে হলেই সারা বাড়িটা মোমের আলোয় উদ্ভাসিত।লাইট অফ করে দেওয়া হতো। আমাদের পুরোনো বাড়িটার আনাচে কানাচে জমাট অন্ধকারে মোমের আলো মায়াবী, গা ছম্ছমে পরিবেশ সৃষ্টি হতো। কখনো কখনো তীব্র হাওয়া এসে মোমবাতি নিভিয়ে চলে যেতো, আবার প্রথম থেকে জ্বালানো শুরু। মুরুব্বীরা বলেন, আজকের দিনে আল্লাহর কাছ থেকে আমাদের মৃত পূর্বপুরুষগণ ছুটি পান, নিজের নিজের বাড়ি আসেন এটা দেখতে যে তাদের পি্রয়জনরা কেমন আছে। তাই সব্বাই যেন মিলেমিশে থাকে, কোনো ঝগড়াঝাঁটি নয়, রাগারাগি নয়! নইলে তেনারা কষ্ট পাবেন।
বাজী পোড়ানো শুরু। প্রথমে ফুলঝুড়ি, তারপর সাপ, চড়কি... এক্কেবারে লাস্টে তুবড়ি। তুবড়ি আমরা জ্বালাতে পারতাম না, ওটা আব্বুর দায়িত্ব ছিলো। কি সুন্দর হুস করে অ্যাত্তোবড়ো ফোয়ারার মতো ফুলকি। আম্মু বলতো সরে আয়, সরে আয়, গায়ে পড়বে, পুড়ে যাবে। আমরা ভয়ে আনন্দে লাফাতে লাফাতে সরে আসতাম। এবার আমার তুবড়িটা জ্বালাতে হবে বায়না তিন জনেরই। যার টা ভালো আর বেশি উচ্চতায় যেতো সে নিজেকে বিজয়ী ভেবে গর্বিত। কার টা বেশি ভালো জ্বলেছে তা নিয়ে তর্ক। আব্বু-আম্মুকে বিচারক করে উৎসুক তিন জনাই। সব থেকে কঠিন বিচার পিতামাতার, কোন সন্তানকে নিরাশ করবে! শেষে সিদ্ধান্তগ্রহণ করতো তিন জনের তুবড়ি সমান জ্বলেছে। সব্বাই বিজয়ী।
সবেবরাতে আমাদের বাড়িতে গরীব মানুষজনদের আম্মু বিরিয়ানি বা পোলাও রান্না করে বিতরণ করে। একতলার বারান্দায় লাইন করে লোকজন খাবার, টাকা নিয়ে যায়। গোল থামে হেলান দিয়ে দেখতাম আম্মুর ধৈর্য। এক এক করে সবাইকে সমান খাবার দিয়ে যাচ্ছে।
এইদিন আমাদের বাড়িতে চালের আটার রুটি আর নানান রকমের হালুয়া হতো। আমার আম্মু ভীষণ ভালো হালুয়া বানায়, এক কথায় অসাধারণ। পাড়ার লোকজনদের সাথে হালুয়া , রুটি আদানপ্রদান চলতো। হাতে বোনা কুরুশের ফুল তোলা ঝালড় তোলা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে বাড়ি বাড়ি হালুয়া দিয়ে আসতাম আমি আর নিউ। এখন সবাই ব্যস্ত, এই পুরোনো মিষ্টি রেওয়াজ গুলো আস্তেআস্তে লুপ্ত হয়ে আসছে। আজকের সারারাত আম্মু নামাজ পড়বে, দোয়া চাইবে, আম্মুর মতো অনেকেই নামাজ পড়বেন। বাড়িতে বাড়িতে দোয়া চাওয়া হবে, মোমবাতির আলোয় উদ্ভসিত হবে গরীব হতে বড়োলোকের বাড়ি।
আল্লাহ গো আজকে যেন সবার কপাল ভালো লিখো। হালুয়া না হোক পেটে খাবার নসিব যেন হয় এই পৃথিবীর অগুন্তি গরীব মানুষজনদের। নামাজ পড়িনি, নিয়ত্ ভালো রেখে চাইছি। জানি তোমার যতটা সম্ভব তুমি করবে। সবাইকে ভালো রেখো, আর এই মেয়েটার কথা একটু ভেবো।
আমিন।
এইদিন আমাদের বাড়িতে চালের আটার রুটি আর নানান রকমের হালুয়া হতো। আমার আম্মু ভীষণ ভালো হালুয়া বানায়, এক কথায় অসাধারণ। পাড়ার লোকজনদের সাথে হালুয়া , রুটি আদানপ্রদান চলতো। হাতে বোনা কুরুশের ফুল তোলা ঝালড় তোলা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে বাড়ি বাড়ি হালুয়া দিয়ে আসতাম আমি আর নিউ। এখন সবাই ব্যস্ত, এই পুরোনো মিষ্টি রেওয়াজ গুলো আস্তেআস্তে লুপ্ত হয়ে আসছে। আজকের সারারাত আম্মু নামাজ পড়বে, দোয়া চাইবে, আম্মুর মতো অনেকেই নামাজ পড়বেন। বাড়িতে বাড়িতে দোয়া চাওয়া হবে, মোমবাতির আলোয় উদ্ভসিত হবে গরীব হতে বড়োলোকের বাড়ি।
আল্লাহ গো আজকে যেন সবার কপাল ভালো লিখো। হালুয়া না হোক পেটে খাবার নসিব যেন হয় এই পৃথিবীর অগুন্তি গরীব মানুষজনদের। নামাজ পড়িনি, নিয়ত্ ভালো রেখে চাইছি। জানি তোমার যতটা সম্ভব তুমি করবে। সবাইকে ভালো রেখো, আর এই মেয়েটার কথা একটু ভেবো।
আমিন।
চারবছর আগে লিখেছিলাম... 😊
এখন বোধহয় এটা আর হাত দিয়ে নামবে না।
এখন বোধহয় এটা আর হাত দিয়ে নামবে না।
পিউয়ের পোষ্যরা ১
হঠাৎ এক চৈত্রমাসের কোনো এক সপ্তাহে দাদাভাই আমাদের দুইবোনকে দুটো টিয়াপাখির ছানা কিনে দিলেন। এই এত্তোটুকুন... তুলোর মতো সাদা সাদা নরম লোম সারা গায়ে... মাঝেসাঝে সবুজ পালক। তখনো পালক গজায়নি পুরোপুরি, গোলাপী চামড়া দৃশ্যমান... চোখ ফুটেছে মাত্র,লাল টুকটুকে ঠোঁট ! পাখিওলা রাস্তা দিয়ে পাখি নিয়ে যাচ্ছিলো... তা দেখে আমার বায়না পাখি কিনবো।
মায়ের কোল থেকে পাখিওলা তুলে এনেছে দুটো পয়সার লোভে। আহা রে জীবন... দুটো পয়সার জন্য কত কি করতে হয় মানুষকে।
বাচ্চা দুটো খেতে পারে না নিজে নিজে... পাখিওলা বললো মুসুর ডাল ভিজিয়ে খাওয়াবেন। আমরা তাই করলাম। সেই সময় টুটুদিদিরা এসেছে আমাদের বাড়ি। তাই অনেক লোকজন পুরো বাড়িতে। আত্মীয় স্বজনরা সব দেখা করতে এসেছে। টুটুদিদি আমার বড়োফুফুমণির মেয়ে। জিজু চাকরি করেন এয়ারফোর্সে। এই শক্তপোক্ত চেহারা,শক্তিমান.....বিকানিরে থাকেন। সেই জিজু আমাদের সবার খুব প্রিয়। তিনি বললেন বাচ্চাদুটোর নাম রাখতে হবে তো? কিছু নাম ঠিক করলে তোমরা? আমরা দুই বোন বললাম আপনিই ঠিক করুন। উনি নাম রাখলেন মিকি মাউস আর নিকি ন্যাপচুন। আমাদেরও খুব পছন্দ হলো নাম দুটো।
মায়ের কোল থেকে পাখিওলা তুলে এনেছে দুটো পয়সার লোভে। আহা রে জীবন... দুটো পয়সার জন্য কত কি করতে হয় মানুষকে।
বাচ্চা দুটো খেতে পারে না নিজে নিজে... পাখিওলা বললো মুসুর ডাল ভিজিয়ে খাওয়াবেন। আমরা তাই করলাম। সেই সময় টুটুদিদিরা এসেছে আমাদের বাড়ি। তাই অনেক লোকজন পুরো বাড়িতে। আত্মীয় স্বজনরা সব দেখা করতে এসেছে। টুটুদিদি আমার বড়োফুফুমণির মেয়ে। জিজু চাকরি করেন এয়ারফোর্সে। এই শক্তপোক্ত চেহারা,শক্তিমান.....বিকানিরে থাকেন। সেই জিজু আমাদের সবার খুব প্রিয়। তিনি বললেন বাচ্চাদুটোর নাম রাখতে হবে তো? কিছু নাম ঠিক করলে তোমরা? আমরা দুই বোন বললাম আপনিই ঠিক করুন। উনি নাম রাখলেন মিকি মাউস আর নিকি ন্যাপচুন। আমাদেরও খুব পছন্দ হলো নাম দুটো।
কিছুদিন পরে নিকি ন্যাপচুনের হঠাৎ করেই শরীর খারাপ, খাবার হজম করতে পারছে না। মুসুর ডাল হজম করার ক্ষমতা নেই অতোটুকু বাচ্চাদের। মিকিও অসুস্থ...পয়লা বৈশাখের দিন বাড়িতে বিশাল হৈ চৈ.. বাবুর্চি রান্না করছে । এমন সময় নিকি ন্যাপচুন মরে গেলো। আমার সে কি বুক ফাটা কান্না। খুব কেঁদেছিলাম... আমার বুকের ভিতরটা যেন ছিঁড়ে নিয়েছিলো কেউ.. আম্মু দাদাভাই সবাই সান্ত্বনা দিচ্ছে!
আত্মীয় স্বজনরা বুঝতে পারছে না একটা সামান্য পাখির জন্য কেন এতো কান্নাকাটি... এদিকে মিকিও অসুস্থ... মুসুর ডাল হজমের ক্ষমতা তার নেই।
শেষে ড্রপে করে তাকে দুধ খাওয়াতে শুরু করলাম। কদিন পরে আমার মিকি সুস্থ হলো। তার পালক গজানো শুরু হলো... মিকি আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে। মা ভাবে কিনা জানিনা... কিন্তু সে আমার ঘাড়ে, মাথায় চড়ে ঘুরে বেড়ায়। খাঁচায় থাকার কোনো শখ তার নেই।
এদিকে বাড়িতে অনেক বেড়াল। সামনে ইয়াদের বাড়িতে অনেক বিড়াল আছে। তারা আমাদের বাড়ি এসে বসে থাকে। ডাস্টবিন উল্টিয়ে মাছের কাঁটা খায়।
অগত্যা মিকিকে খাঁচায় রাখতে হবেই... মিকি থাকবে কেন?
সে ঠোঁটে করে খাঁচার শিক বেঁকিয়ে বেরিয়ে যায়! কিছুতে তাকে বাগে আনা যায়না। আম্মু দাদি দুজনেই বলে যেমন মনিব, তেমন তার পাখি! দুটোই গেছো এবং বদমাশ!
এমন করে বেড়োতে গিয়ে হঠাৎ একদিন মিকির একটা পাখায় আঘাত লেগে হাড় সরে গেলো। সে চেষ্টা করলেও আর সারেনি। মিকি আর ভালো উড়তে শিখতে পারলো না । অল্প বিস্তর কাজ চালানোর মতো উড়তে পারে।
আত্মীয় স্বজনরা বুঝতে পারছে না একটা সামান্য পাখির জন্য কেন এতো কান্নাকাটি... এদিকে মিকিও অসুস্থ... মুসুর ডাল হজমের ক্ষমতা তার নেই।
শেষে ড্রপে করে তাকে দুধ খাওয়াতে শুরু করলাম। কদিন পরে আমার মিকি সুস্থ হলো। তার পালক গজানো শুরু হলো... মিকি আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে। মা ভাবে কিনা জানিনা... কিন্তু সে আমার ঘাড়ে, মাথায় চড়ে ঘুরে বেড়ায়। খাঁচায় থাকার কোনো শখ তার নেই।
এদিকে বাড়িতে অনেক বেড়াল। সামনে ইয়াদের বাড়িতে অনেক বিড়াল আছে। তারা আমাদের বাড়ি এসে বসে থাকে। ডাস্টবিন উল্টিয়ে মাছের কাঁটা খায়।
অগত্যা মিকিকে খাঁচায় রাখতে হবেই... মিকি থাকবে কেন?
সে ঠোঁটে করে খাঁচার শিক বেঁকিয়ে বেরিয়ে যায়! কিছুতে তাকে বাগে আনা যায়না। আম্মু দাদি দুজনেই বলে যেমন মনিব, তেমন তার পাখি! দুটোই গেছো এবং বদমাশ!
এমন করে বেড়োতে গিয়ে হঠাৎ একদিন মিকির একটা পাখায় আঘাত লেগে হাড় সরে গেলো। সে চেষ্টা করলেও আর সারেনি। মিকি আর ভালো উড়তে শিখতে পারলো না । অল্প বিস্তর কাজ চালানোর মতো উড়তে পারে।
সেই মিকি প্রথম কথা শিখলো "এ পিউ"
আমাকে মনে পরলে কিংবা দেখতে পেলেই সুর করে ডাকে "এ পিউ... মিক মিক মিকি।" মানে এ পিউ, মিকি তোকে ডাকছে।
কখনো শিষ দিয়ে বলে "এ পিউ... মিক মিক মিকি।"
কোনো অপরিচিত এলে চীৎকার "কে কে কে?"
কোনো অপরিচিত মানুষ বাড়িতে এসে বাড়ির কোনো কিছুতে হাত দিলে চীৎকার করে পাড়া মাত করে।
আমি যখন হারমোনিয়ামে রেওয়াজ করি আমার সঙ্গে সুর করে
গায় "আয় তবে সহচরী।"
আম্মু আমাকে মারলে বা বকলে মিকি জোরে জোরে আম্মুকে বকে দেয়। আমার ক্ষেত্রে মিকি সাংঘাতিক রক্ষণশীল। সে কাউকে বকতে দেবে না, মারতে দেবে না। আমার উপর একমাত্র তার অধিকার।
আমাকে সে কামড়ায়না, আঁচড়ায়না। বাকিদের কামড়ে আঁচড়ে রক্ত বের করে দেয়! দাদি খেতে দিতে গিয়ে কামড় খেয়ে বলতেন "বদ পাখি কোথাকার, আর খেতে দেবো না! "
মিকি চোখ পাকিয়ে আবার ঠুকরে দেয়। মিকি আমার সর্বস্ব, সে আমার জান।
আব্বু মজা করে মিকিকে নাতি ডাকে... আর বলে শ্বশুড়বাড়ি গেলে মিকিকে আমার সঙ্গে দেবে!
আমাকে মনে পরলে কিংবা দেখতে পেলেই সুর করে ডাকে "এ পিউ... মিক মিক মিকি।" মানে এ পিউ, মিকি তোকে ডাকছে।
কখনো শিষ দিয়ে বলে "এ পিউ... মিক মিক মিকি।"
কোনো অপরিচিত এলে চীৎকার "কে কে কে?"
কোনো অপরিচিত মানুষ বাড়িতে এসে বাড়ির কোনো কিছুতে হাত দিলে চীৎকার করে পাড়া মাত করে।
আমি যখন হারমোনিয়ামে রেওয়াজ করি আমার সঙ্গে সুর করে
গায় "আয় তবে সহচরী।"
আম্মু আমাকে মারলে বা বকলে মিকি জোরে জোরে আম্মুকে বকে দেয়। আমার ক্ষেত্রে মিকি সাংঘাতিক রক্ষণশীল। সে কাউকে বকতে দেবে না, মারতে দেবে না। আমার উপর একমাত্র তার অধিকার।
আমাকে সে কামড়ায়না, আঁচড়ায়না। বাকিদের কামড়ে আঁচড়ে রক্ত বের করে দেয়! দাদি খেতে দিতে গিয়ে কামড় খেয়ে বলতেন "বদ পাখি কোথাকার, আর খেতে দেবো না! "
মিকি চোখ পাকিয়ে আবার ঠুকরে দেয়। মিকি আমার সর্বস্ব, সে আমার জান।
আব্বু মজা করে মিকিকে নাতি ডাকে... আর বলে শ্বশুড়বাড়ি গেলে মিকিকে আমার সঙ্গে দেবে!
(চলবে)
দুনিয়ার সব শাহরুখ ভক্তরা এক হও
আজকে তৌসিফের এক কলিগের ফেয়ারওয়েল ছিলো। লোকটি চীন দেশের লোক, নাম ইয়াং।
ইয়াং ফিজিক্সের একজন ভালো গবেষক এবং খুব ভালো ছবি তোলে। চীন সরকার ইয়াংকে মোটা টাকা মাইনে দিয়ে প্রফেসর পদ অফার করেছে । তিরিশ শতাংশ মূল্য দিয়ে বাড়ি কেনা এবং অন্যান্য অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, তাকে পর্যাপ্ত ছুটি এবং বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ভিজিটের জন্যও ফান্ডিং করবে বলেছে। মোট কথা, খুবই ভালো অফার। ইয়াং এর তাই মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে চীনে চলে যাচ্ছে।
সেই ইয়াং আজকে পার্টি দিয়েছিলো একটা গ্রীক রেঁস্তোরায়। যার যা ইচ্ছা খাবার অর্ডার... সবাই ওর অফিসের এবং গ্রুপের লোক.. একমাত্র আমিই বহিরাগত এবং অবশ্যই পদার্থবিদ নই।
আমার সাথে তৌসিফের প্রায় সব কলিগের পরিচয় আছে এবং যথারীতি গাছের আম থেকে অ্যামাজনের পোকা সব নিয়েই আলোচনা হয়। তৌসিফ চুপচাপ শোনে... নতুন লোকে ভাবতে পারে যে এরা আমারই কলিগ.. তৌসিফ নিমন্ত্রিত। ভাবাটা মোটেই আশ্চর্যজনক হবে না।
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের ডাইরেক্টর তথা তৌসিফের জার্মান হোস্টকে আজকে খেজুর গুড় এবং ছানা তৈরীর পদ্ধতি নিয়ে জ্ঞান বিতরণ করেছি... তিনি গুড় এবং বাঙালী মিষ্টির বিবরণ শুনে সাংঘাতিক ইমপ্রেসড। ভারত যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ অবধি প্রকাশ করেছেন। তৌসিফের অস্ট্রিয়ান কলিগ খেজুর রসের মদ খেতে সাংঘাতিক ইন্টারেস্টেড হয়েছে।
তো আলোচনায় ফা-হিয়েন, হিউ এন সাঙ থেকে আরম্ভ করে তৈমুর লং, মেগাস্থিনিস হয়ে দলাই লামা , বুদ্ধ (ভট্টাচার্য্য নয়) সবই এসেছে।
চীনের মাইথোলজি, অস্ট্রিয়ার রাজনীতি, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, ইউরোপের রিফিউজি সমস্যা সবই আলোচ্য বিষয় ছিলো।
মোদ্দা কথা লাদাখের দুই কুঁজওলা উট থেকে আরম্ভ করে মিশরের নীলনদ সব নিয়েই গুরু গম্ভীর আলোচনা হয়েছে।
তবে অবশ্যই ফিজিক্স বাদ... আমি থাকতে ফিজিক্স নিয়ে আলোচনা কখনোই হতে পারে না!
এমন অবস্থায় আর একজন চীনা হঠাৎ জিজ্ঞাসা করলো আমি দেবদাস দেখেছি না! ব্যস... আবার কি! গুরু চলে এসেছে আলোচনায়..দেবদাস নিয়ে ছোকরা সাংঘাতিক ইমপ্রেসড। সে আবার শাহরুখ খানের তুমুল ভক্ত। তার উদ্দীপনা দেখে অস্ট্রিয়ান ছেলেটা সিনেমার নাম লিখে নিলো যাতে সে পরে সিনেমাটা দেখতে পারে! এই সুযোগে টুক করে আমি শরৎচন্দ্র এবং বাংলার সাহিত্য নিয়ে পাঁচ মিনিটের টক দিয়ে দিলাম।
এইভাবেই আমরা একদিন চীন এবং বাকি দেশের সাথে যুদ্ধ মেটাবো ইনসাল্লাহ!
শাহরুখ খানের ভক্তরা মিলে সব যুদ্ধ, বিগ্রহ , রাগারাগি মিটিয়ে বিপ্লব আনবো দেশে দেশে!
কোনো এক পুণ্য প্রাতেঃ দুনিয়ার সব শাহরুখ ভক্তরা এক হও স্লোগানে মুখরিত হবে পৃথিবীর প্রতিটি কোণ।
শাহরুখ দীর্ঘজীবি হোক। 😍
ইয়াং ফিজিক্সের একজন ভালো গবেষক এবং খুব ভালো ছবি তোলে। চীন সরকার ইয়াংকে মোটা টাকা মাইনে দিয়ে প্রফেসর পদ অফার করেছে । তিরিশ শতাংশ মূল্য দিয়ে বাড়ি কেনা এবং অন্যান্য অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, তাকে পর্যাপ্ত ছুটি এবং বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ভিজিটের জন্যও ফান্ডিং করবে বলেছে। মোট কথা, খুবই ভালো অফার। ইয়াং এর তাই মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে চীনে চলে যাচ্ছে।
সেই ইয়াং আজকে পার্টি দিয়েছিলো একটা গ্রীক রেঁস্তোরায়। যার যা ইচ্ছা খাবার অর্ডার... সবাই ওর অফিসের এবং গ্রুপের লোক.. একমাত্র আমিই বহিরাগত এবং অবশ্যই পদার্থবিদ নই।
আমার সাথে তৌসিফের প্রায় সব কলিগের পরিচয় আছে এবং যথারীতি গাছের আম থেকে অ্যামাজনের পোকা সব নিয়েই আলোচনা হয়। তৌসিফ চুপচাপ শোনে... নতুন লোকে ভাবতে পারে যে এরা আমারই কলিগ.. তৌসিফ নিমন্ত্রিত। ভাবাটা মোটেই আশ্চর্যজনক হবে না।
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের ডাইরেক্টর তথা তৌসিফের জার্মান হোস্টকে আজকে খেজুর গুড় এবং ছানা তৈরীর পদ্ধতি নিয়ে জ্ঞান বিতরণ করেছি... তিনি গুড় এবং বাঙালী মিষ্টির বিবরণ শুনে সাংঘাতিক ইমপ্রেসড। ভারত যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ অবধি প্রকাশ করেছেন। তৌসিফের অস্ট্রিয়ান কলিগ খেজুর রসের মদ খেতে সাংঘাতিক ইন্টারেস্টেড হয়েছে।
তো আলোচনায় ফা-হিয়েন, হিউ এন সাঙ থেকে আরম্ভ করে তৈমুর লং, মেগাস্থিনিস হয়ে দলাই লামা , বুদ্ধ (ভট্টাচার্য্য নয়) সবই এসেছে।
চীনের মাইথোলজি, অস্ট্রিয়ার রাজনীতি, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, ইউরোপের রিফিউজি সমস্যা সবই আলোচ্য বিষয় ছিলো।
মোদ্দা কথা লাদাখের দুই কুঁজওলা উট থেকে আরম্ভ করে মিশরের নীলনদ সব নিয়েই গুরু গম্ভীর আলোচনা হয়েছে।
তবে অবশ্যই ফিজিক্স বাদ... আমি থাকতে ফিজিক্স নিয়ে আলোচনা কখনোই হতে পারে না!
এমন অবস্থায় আর একজন চীনা হঠাৎ জিজ্ঞাসা করলো আমি দেবদাস দেখেছি না! ব্যস... আবার কি! গুরু চলে এসেছে আলোচনায়..দেবদাস নিয়ে ছোকরা সাংঘাতিক ইমপ্রেসড। সে আবার শাহরুখ খানের তুমুল ভক্ত। তার উদ্দীপনা দেখে অস্ট্রিয়ান ছেলেটা সিনেমার নাম লিখে নিলো যাতে সে পরে সিনেমাটা দেখতে পারে! এই সুযোগে টুক করে আমি শরৎচন্দ্র এবং বাংলার সাহিত্য নিয়ে পাঁচ মিনিটের টক দিয়ে দিলাম।
এইভাবেই আমরা একদিন চীন এবং বাকি দেশের সাথে যুদ্ধ মেটাবো ইনসাল্লাহ!
শাহরুখ খানের ভক্তরা মিলে সব যুদ্ধ, বিগ্রহ , রাগারাগি মিটিয়ে বিপ্লব আনবো দেশে দেশে!
কোনো এক পুণ্য প্রাতেঃ দুনিয়ার সব শাহরুখ ভক্তরা এক হও স্লোগানে মুখরিত হবে পৃথিবীর প্রতিটি কোণ।
শাহরুখ দীর্ঘজীবি হোক। 😍
ও হ্যাঁ, চীনে যেতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইয়াং। আমি তাকে আশ্বস্ত করেছি তৌসিফ অবশ্যই চীনে যাবে.. না গেলে আমি ঘাড় ধরে তৌসিফকে বিশ্ববিদ্যালয়ে টক দেওয়াতে নিয়ে যাবো.. আর সেই সুযোগে টুক করে চীন দেশ ঘুরে নেবো। 🤪
Friday, 21 December 2018
মোনালিসার জন্মদিনে
তখন বর্ধমানে অনেক শীত পড়তো। ডিসেম্বরে ছাদে সবাই রোদ পোহাতো...এরকমই একটা দিনে অ্যাপোলো হাসপাতালে ও জন্মেছিলো। এতটুকু বিড়াল বাচ্চার সাইজের... মাথার পিছনে একটা আলু... কিভাবে ঐরকম আলু হয়েছিলো কেউ জানেনা। হয়তো পেটে থাকতে কোনোভাবে আঘাত পেয়ে গেছিলো। পজিশন খারাপ থাকায় সময়ের আগেই সিজারিয়ান করতে হয়েছিলো।
হাসপাতালের ছাদে শীতের নরম রোদে বাচ্চাদের দোলনায় সারি সারি বাচ্চা... দাদি এসেছেন নতুন জন্মানো নাতনীকে দেখতে।
হাসপাতালের আয়ারা মজা করে দাদিকে বললেন কোনটা নাতনী বলুন দেখি। দাদি সামনের দিকে তাকিয়ে দেখলেন অন্তত দশ পনেরোটা বাচ্চা শুয়ে। আয়াদের বললেন ঐ কোণের সবথেকে ধবধবে সাদা বাচ্চাটা আমার নাতনী।
দুধে আলতা রং... টিকালো নাক, পাতলা ঠোঁট.. গভীর পাপড়িওলা চোখের মেয়েটা বরাবরই রোগা... শুশুক প্রকৃতির। কেউ জোরে কথা বললেও ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে ফেলবে মনে হয়।
আমি তখন দেড় বছরের বাচ্চা... তারপরেও কোনোভাবে ঝাপসা দৃশ্যটা মাথায় আটকে গেছে। আম্মু হাসপাতাল থেকে রিক্সায় বাড়ি ফিরছে.. কোলে হলুদ জামা পরা পুতুলটা।
এই পুতুলটাকে আমি ভাই বলতাম কারণ আমার ভাইয়ের শখ ছিলো অনেক...ওর দোলনায় উঠে বসে থাকতাম। আম্মু সর্বদা নজরে রাখতো ভাই ভাই করার আতিশয্যে বাচ্চার ক্ষতি না হয়ে যায়।
ছোটোবেলায় যারাই বাড়িতে আসতো আম্মুকে বলতো তোমার এই ছোটো মেয়েটা এত্ত সুন্দর... পরীর মতো সুন্দর। আমার ভীষণ রাগ হতো... আমারই বোন আর আমার থেকেও সুন্দর কি করে হয়?
বড়ো হওয়ার সুবাদে সব জিনিষে আমার অধিকার ছিলো প্রথমে, তারপরে নিউয়ের... সে স্কুলের বই থেকে আরম্ভ করে নতুন সোয়েটার। তারপর আমার দরকার মিটে গেলে সেটা নিউ পেতো। ছোটোবেলায় আমি বড্ড হিংসুটে ছিলাম। আমার সবথেকে ভালো জিনিষটাই চাই... আর ঐ সুন্দর পুতুলের মতো মেয়েটা প্রায় সব জিনিষই পেতো আমার ব্যবহার করা।
প্রথমবার যখন আবৃত্তি কমপিটিশনে ও প্রথম হয়ে গেলো, আর আমি দ্বিতীয় ...আমি হাত পা ছড়িয়ে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদেছিলাম। আম্মুকে বলেছিলাম তুমি ওকে বেশী ভালোবাসো তাই ওকে বেশী ভালো করে শিখিয়েছো।
নিউ প্রচন্ড পরিশ্রমী। সবকাজেই অনেক পরিশ্রম করে... যখন প্রথম গান শিখতে শুরু করে হাতটা হারমোনিয়ামের বেলো অবধি পৌঁছাতো না। আম্মু ওকে দুটো বালিশের উপরে বসিয়ে দিতো... ঐ টুকু মেয়ে ভোরবেলায় উঠে রেওয়াজ করতো প্রতিদিন। আর তখন হাত পা ছড়িয়ে আমি ঘুমাতাম।
আঁকা থেকে আরম্ভ করে পড়াশোনা সবকিছুই মেয়েটা যত্ন নিয়ে অভ্যাস করতো...এদিকে তখন আমি পড়াশোনা না করার জন্য ঠ্যাঙানি খাচ্ছি। আম্মু বরাবর বলতো ছোটো বোনকে দেখেও তো শিখতে পারিস... নিউকে কখনো কিছু বলতে হয়নি। আমার ঠ্যাঙানি দেখেই ও শিখে যেতো ওকে কি করতে হবে। কখনো মার খায়নি.. সবার চোখের মণি, বাধ্য, শান্ত, সবার হুকুমে দাঁড়িয়ে থাকা একটা মেয়ে , তবু মুখে টুঁ শব্দটা নেই।
সেখানে আমি হলাম অবাধ্য, হাড় বজ্জাত , মুখে মুখে তর্ক করা বেতমিজ একটা মেয়ে...
পুতুলটা যত বড়ো হতে লাগলো আরো সুন্দর হতে শুধু করলো.. মধুবালার মতো ঠোঁটের নীচে তিল, হাসির মাঝে গজদন্ত... ঈশ্বর যেন বড়ো যত্ন করে বানিয়েছে!
নিউয়ের উপর অধিকার চাপানো আমার স্বভাব ছিলো। ওটা আমার বোন... অতএব আমার মতো করেই চলতে হবে এইরকম একটা ব্যাপার। ভীতু, শান্ত মেয়েটাকে কেউ কিছু বললে আমার ঝগড়া করতে মন হতো। মনে হতো মেরেই দেবো আজকে... কি সাহস, আমার বোনের দিকে নজর দেয়!!!
তারপরেও কেমন করে যেন ভীতু মেয়েটা বড়ো হয়ে গেলো... সেই মেয়েটা যে বুড়ি ফুলওয়ালীর কাছ থেকে সবফুল কিনে বাড়ি চলে আসে... সেই মেয়েটা যে রাস্তার খালি পায়ের পথশিশুদের দেখে জুতো কিনে বাড়ি দিয়ে আসে... সেই মেয়েটা যে কেরালা বন্যাত্রাণই হোক কিংবা কৃষক মিছিল , তার জন্য অফিসে লাখ লাখ চাঁদা তোলে...
সেই মেয়েটা যে কিনা দারুন সুন্দর আঁকে... যার জুতোর সংখ্যা জয়ললিতার আলমারীকেও লজ্জা দেবে... যে মেয়েটা একশো টাকা দিলে ষাটটাকা জমিয়ে ফেলে, যে কিনা গরীব মানুষদের শীতের সময় একা হাতে কম্বল দান করে... যে মেয়েটা কখনো কাউকে খালি হাতে ফেরায়নি... যার পায়ের তলায় সরষে আছে
আজকে সেই মেয়েটার জন্মদিন... ঐ পুতুলের মতো মেয়েটার জন্মদিন... যে ছোটো হয়েও আমাকে দিদির মতো সামলেছে... যে এখনো আমার দরকার অদরকার খুঁটি নাটি খেয়াল রাখে... যে মেয়েটা প্রায় একা হাতে আমার বিয়ের সমস্ত আয়োজন করেছিলো.. আজ তার জন্মদিন।
হাসপাতালের ছাদে শীতের নরম রোদে বাচ্চাদের দোলনায় সারি সারি বাচ্চা... দাদি এসেছেন নতুন জন্মানো নাতনীকে দেখতে।
হাসপাতালের আয়ারা মজা করে দাদিকে বললেন কোনটা নাতনী বলুন দেখি। দাদি সামনের দিকে তাকিয়ে দেখলেন অন্তত দশ পনেরোটা বাচ্চা শুয়ে। আয়াদের বললেন ঐ কোণের সবথেকে ধবধবে সাদা বাচ্চাটা আমার নাতনী।
দুধে আলতা রং... টিকালো নাক, পাতলা ঠোঁট.. গভীর পাপড়িওলা চোখের মেয়েটা বরাবরই রোগা... শুশুক প্রকৃতির। কেউ জোরে কথা বললেও ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে ফেলবে মনে হয়।
আমি তখন দেড় বছরের বাচ্চা... তারপরেও কোনোভাবে ঝাপসা দৃশ্যটা মাথায় আটকে গেছে। আম্মু হাসপাতাল থেকে রিক্সায় বাড়ি ফিরছে.. কোলে হলুদ জামা পরা পুতুলটা।
এই পুতুলটাকে আমি ভাই বলতাম কারণ আমার ভাইয়ের শখ ছিলো অনেক...ওর দোলনায় উঠে বসে থাকতাম। আম্মু সর্বদা নজরে রাখতো ভাই ভাই করার আতিশয্যে বাচ্চার ক্ষতি না হয়ে যায়।
ছোটোবেলায় যারাই বাড়িতে আসতো আম্মুকে বলতো তোমার এই ছোটো মেয়েটা এত্ত সুন্দর... পরীর মতো সুন্দর। আমার ভীষণ রাগ হতো... আমারই বোন আর আমার থেকেও সুন্দর কি করে হয়?
বড়ো হওয়ার সুবাদে সব জিনিষে আমার অধিকার ছিলো প্রথমে, তারপরে নিউয়ের... সে স্কুলের বই থেকে আরম্ভ করে নতুন সোয়েটার। তারপর আমার দরকার মিটে গেলে সেটা নিউ পেতো। ছোটোবেলায় আমি বড্ড হিংসুটে ছিলাম। আমার সবথেকে ভালো জিনিষটাই চাই... আর ঐ সুন্দর পুতুলের মতো মেয়েটা প্রায় সব জিনিষই পেতো আমার ব্যবহার করা।
প্রথমবার যখন আবৃত্তি কমপিটিশনে ও প্রথম হয়ে গেলো, আর আমি দ্বিতীয় ...আমি হাত পা ছড়িয়ে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদেছিলাম। আম্মুকে বলেছিলাম তুমি ওকে বেশী ভালোবাসো তাই ওকে বেশী ভালো করে শিখিয়েছো।
নিউ প্রচন্ড পরিশ্রমী। সবকাজেই অনেক পরিশ্রম করে... যখন প্রথম গান শিখতে শুরু করে হাতটা হারমোনিয়ামের বেলো অবধি পৌঁছাতো না। আম্মু ওকে দুটো বালিশের উপরে বসিয়ে দিতো... ঐ টুকু মেয়ে ভোরবেলায় উঠে রেওয়াজ করতো প্রতিদিন। আর তখন হাত পা ছড়িয়ে আমি ঘুমাতাম।
আঁকা থেকে আরম্ভ করে পড়াশোনা সবকিছুই মেয়েটা যত্ন নিয়ে অভ্যাস করতো...এদিকে তখন আমি পড়াশোনা না করার জন্য ঠ্যাঙানি খাচ্ছি। আম্মু বরাবর বলতো ছোটো বোনকে দেখেও তো শিখতে পারিস... নিউকে কখনো কিছু বলতে হয়নি। আমার ঠ্যাঙানি দেখেই ও শিখে যেতো ওকে কি করতে হবে। কখনো মার খায়নি.. সবার চোখের মণি, বাধ্য, শান্ত, সবার হুকুমে দাঁড়িয়ে থাকা একটা মেয়ে , তবু মুখে টুঁ শব্দটা নেই।
সেখানে আমি হলাম অবাধ্য, হাড় বজ্জাত , মুখে মুখে তর্ক করা বেতমিজ একটা মেয়ে...
পুতুলটা যত বড়ো হতে লাগলো আরো সুন্দর হতে শুধু করলো.. মধুবালার মতো ঠোঁটের নীচে তিল, হাসির মাঝে গজদন্ত... ঈশ্বর যেন বড়ো যত্ন করে বানিয়েছে!
নিউয়ের উপর অধিকার চাপানো আমার স্বভাব ছিলো। ওটা আমার বোন... অতএব আমার মতো করেই চলতে হবে এইরকম একটা ব্যাপার। ভীতু, শান্ত মেয়েটাকে কেউ কিছু বললে আমার ঝগড়া করতে মন হতো। মনে হতো মেরেই দেবো আজকে... কি সাহস, আমার বোনের দিকে নজর দেয়!!!
তারপরেও কেমন করে যেন ভীতু মেয়েটা বড়ো হয়ে গেলো... সেই মেয়েটা যে বুড়ি ফুলওয়ালীর কাছ থেকে সবফুল কিনে বাড়ি চলে আসে... সেই মেয়েটা যে রাস্তার খালি পায়ের পথশিশুদের দেখে জুতো কিনে বাড়ি দিয়ে আসে... সেই মেয়েটা যে কেরালা বন্যাত্রাণই হোক কিংবা কৃষক মিছিল , তার জন্য অফিসে লাখ লাখ চাঁদা তোলে...
সেই মেয়েটা যে কিনা দারুন সুন্দর আঁকে... যার জুতোর সংখ্যা জয়ললিতার আলমারীকেও লজ্জা দেবে... যে মেয়েটা একশো টাকা দিলে ষাটটাকা জমিয়ে ফেলে, যে কিনা গরীব মানুষদের শীতের সময় একা হাতে কম্বল দান করে... যে মেয়েটা কখনো কাউকে খালি হাতে ফেরায়নি... যার পায়ের তলায় সরষে আছে
আজকে সেই মেয়েটার জন্মদিন... ঐ পুতুলের মতো মেয়েটার জন্মদিন... যে ছোটো হয়েও আমাকে দিদির মতো সামলেছে... যে এখনো আমার দরকার অদরকার খুঁটি নাটি খেয়াল রাখে... যে মেয়েটা প্রায় একা হাতে আমার বিয়ের সমস্ত আয়োজন করেছিলো.. আজ তার জন্মদিন।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা মোনালিসা (সুন্দর হাসির জন্য আব্বু আদর করে মোনালিসা নাম দিয়েছিলো)
তার আরো একটা নাম আছে... নিউ সান... নতুন সূর্য।
আমি তোকে এখনো হিংসা করি... একটা মানুষ এতো ভালো কি করে হয়?
জলছবি
১) জুঁইয়ের বাড়ির সামনের দরজায় কে লিখে দিয়ে গেছে “আই লাভ ইউ জুঁই।”
এসব দেখে কাকু ভীষণ খেপে গেছে... ওপাড়ায় গিয়ে পলাশকে চমকে এসেছে... মনে হয় পলাশই এই কাজটি করেছে।
রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখা যাচ্ছে কৈশোরের ভালোবাসা।
এসব দেখে কাকু ভীষণ খেপে গেছে... ওপাড়ায় গিয়ে পলাশকে চমকে এসেছে... মনে হয় পলাশই এই কাজটি করেছে।
রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখা যাচ্ছে কৈশোরের ভালোবাসা।
২) আব্বুর দাঁত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। টেবিলের উপরেই রাখা ছিলো। তারপরেই দেখছে আর নেই। বেশ ছোটো বেলায় পোকা হওয়ায় কটা দাঁত তুলে দিতে হয়েছিলো।
আম্মু অনেক গোয়েন্দাগিরি করে বের করেছে আসল কালপ্রিটকে। আম্মুর ধারণা খামারে থাকা মেঠো ইঁদুরের কীর্তি এটা। ধানের সময়ে খামারে ইঁদুরের উৎপাত থাকে ভালোই।
আম্মু প্রফুল্লচিত্তে তেনার এই গোয়েন্দাগিরির কথা আমাদেরকে বলাতে আব্বু ভীষণ রেগে গেছে। ইঁদুরের এই ভয়ানক সাহস আব্বুর একদমই পছন্দ হয়নি।
নিউ আব্বুকে আবার বলেছে ‘আব্বু ছোটো বেলায় দুধদাঁত ইঁদুরকে দিয়ে বলেনি “ইঁদুর তোমার দাঁত আমাকে দাও.. আমার দাঁত তুমি নাও।”
তাই এতদিন পরে ইঁদুর রেগে গিয়ে আব্বুর দাঁত নিয়ে চলে গেছে।’ এইটা শুনে আব্বু আরো রেগে গেছে।
আম্মু অনেক গোয়েন্দাগিরি করে বের করেছে আসল কালপ্রিটকে। আম্মুর ধারণা খামারে থাকা মেঠো ইঁদুরের কীর্তি এটা। ধানের সময়ে খামারে ইঁদুরের উৎপাত থাকে ভালোই।
আম্মু প্রফুল্লচিত্তে তেনার এই গোয়েন্দাগিরির কথা আমাদেরকে বলাতে আব্বু ভীষণ রেগে গেছে। ইঁদুরের এই ভয়ানক সাহস আব্বুর একদমই পছন্দ হয়নি।
নিউ আব্বুকে আবার বলেছে ‘আব্বু ছোটো বেলায় দুধদাঁত ইঁদুরকে দিয়ে বলেনি “ইঁদুর তোমার দাঁত আমাকে দাও.. আমার দাঁত তুমি নাও।”
তাই এতদিন পরে ইঁদুর রেগে গিয়ে আব্বুর দাঁত নিয়ে চলে গেছে।’ এইটা শুনে আব্বু আরো রেগে গেছে।
৩) মৃদুলভাই আজকে খুব রেগে। এত ঘটা করে প্রপোজ করার পরেও রিজেক্ট খেয়েছে। সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ভীষণ রাগে কচমচ করে পাতা সুদ্ধ লাল গোলাপটা খেয়ে ফেললো।
আমি , নিউ , ছোটোমামা হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে। এইসময় খিল্লি করা উচিত কিনা সেটা নিয়ে ছোটোমামা ভাবছে।
আমি , নিউ , ছোটোমামা হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে। এইসময় খিল্লি করা উচিত কিনা সেটা নিয়ে ছোটোমামা ভাবছে।
৪) ছোটোমামার পকেট থেকে আম্মু লাইটার খুঁজে পেয়েছে। মামার খবর আছে আজকে... আমরা চার ভাইবোন ঘুরছি ফিরছি আর আম্মুর মতিগতি বোঝার চেষ্টা করছি।
৫) গোলামবাবুর ব্যাচে ঢুকতেই ব্যাচমেটরা সেলিম সেলিম করে চেঁচিয়ে উঠলো।
রাগে দুকান লাল হয়ে গেছে আমার। স্থিতু হয়ে স্যারের পাশে বসতেই আবার সেলিম সেলিম চীৎকার। রেগে গিয়ে সামনের রাখা জলভর্তি বোতলটা ছুঁড়ে মারলাম ওদের দিকে।
গোলামবাবু মাথায় হাত বুলিয়ে বলছে.. আহা রাগ করে না পিউ, ঠান্ডা হ। চল ব্যাঙের পৌষ্টিকতন্ত্র টা দেখা যাক আজকে।
রাগে দুকান লাল হয়ে গেছে আমার। স্থিতু হয়ে স্যারের পাশে বসতেই আবার সেলিম সেলিম চীৎকার। রেগে গিয়ে সামনের রাখা জলভর্তি বোতলটা ছুঁড়ে মারলাম ওদের দিকে।
গোলামবাবু মাথায় হাত বুলিয়ে বলছে.. আহা রাগ করে না পিউ, ঠান্ডা হ। চল ব্যাঙের পৌষ্টিকতন্ত্র টা দেখা যাক আজকে।
৬) আজ সকাল আটটার সময়ে নিউ আর সারমিনকে আব্বু নীলপুরে সাইকেল করে ঘুরতে দেখেছে। আব্বুর মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে না ঠিক আব্বু রেগে আছে কি নেই... খাবার টেবিলে আব্বু জিজ্ঞাসা করলো ফুলের দোকানের সামনে কি করছিলো নিউ।
কাঁচুমাঁচু মুখে নিউ উত্তর দিলো ভ্যালেন্টাইনসডে তে দিদিমণির জন্য ফুল কিনছিলো। আব্বুর দিকে তাকানোর আর সাহস হচ্ছেনা কারোরই...আব্বু বিরক্ত হয়ে বোধহয় ভাবছে এসব ভ্যালেনটাইনস ডেই বা কি... আর তাতে দিদিমণিকে ফুলই বা দিতে হবে কেন!
কাঁচুমাঁচু মুখে নিউ উত্তর দিলো ভ্যালেন্টাইনসডে তে দিদিমণির জন্য ফুল কিনছিলো। আব্বুর দিকে তাকানোর আর সাহস হচ্ছেনা কারোরই...আব্বু বিরক্ত হয়ে বোধহয় ভাবছে এসব ভ্যালেনটাইনস ডেই বা কি... আর তাতে দিদিমণিকে ফুলই বা দিতে হবে কেন!
টুকরো টুকরো স্মৃতি... আহা... যখনি পিছন ঘুরে তাকাই একরাশ হাসি কান্না প্রেম রাগ মারামারি মিশ্রিত জলছবি দেখি... ভালোবাসার জীবন.. হ্যারি পটারের অ্যালবামের ছবির মতো মুহূর্তরা নড়েচড়ে বেড়াচ্ছে মনের মণিকোঠায়।
স্মৃতি সততই সুখের...
স্মৃতি সততই সুখের...
Friday, 14 December 2018
জার্মানী ডাইরী-১
পরবাস পর্ব:
অদ্ভুত একটা দেশে এসে পড়েছি! এদেশের আকাশ সবসময় মেঘাচ্ছন্ন.. সূর্য ওঠেই না বললে চলে! হয় বৃষ্টি নয়তো বরফ!!
বর্ষাকাল আমার খুবই প্রিয়.. আমি তো বর্ষার মেয়ে, তাই বৃষ্টির সাথে আমার খুব আপন সম্পর্ক। কিন্তু এদেশের বৃষ্টিটাও বাজে! এরা অতি সন্তর্পণে ঝরবে! কেন রে বাবা! ঝমঝমিয়ে নাম না একবার!! তা নয়, টিপ টিপ করে পড়ছে। যেন একটু বেশি জোরে বৃষ্টি হলেই মাস্টারমশাই খুব বকে দেবে!
কলকাতায় অফিস যাওয়ার সময় খুব চাইতাম একটু মেঘ করুক, সেইসময় আমি অফিস পৌঁছে যাই টুক করে! আর এখানে চাইছি সূর্য উঠুক অন্তত আজকে! অনন্ত অপেক্ষা তবু সূর্য উঠছে না! সেই কবে ভারতবর্ষে সূর্যের মুখ দেখেছিলাম!
গতকাল গোটা বিশ্বে উল্কাপাত হলো, সবাই দেখলো আমি বাদে!
মেঘাচ্ছন্ন মাইন্জ!
আমার দেশের পেঁয়াজের রংটাও কি সুন্দর...কথাতেই আছে পেঁয়াজী রং! ও বাবা! এ দেশের পেঁয়াজ তো সবুজ!!!!
এতো সবুজের বহর দেখলে আমাদের দিদি ভারী খুশি হতো!
কি ভাগ্যিস গাজরের রংও সবুজ নয়!
এখানে আমি লঙ্কা অবধি মিস করছি... কারণ এরা লঙ্কা খায়না!
যদিও আমার মিস করার তালিকাটা বেশ দীর্ঘ!
সূর্য, পেঁয়াজ,চড়ুই, ফুচকা, বাসের কন্ডাক্টারের চীৎকার, অটোর লাইন, লাল পতাকার বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক স্লোগান, কাকের কা কা এমনকি মমতা ব্যানার্জ্জীকেও!!!
এমন হতচ্ছাড়া দেশ, কাক অবধি চীৎকার করে না!
হোয়াই ম্যান? হোয়াই? হোয়াই?
পায়রা আছে অনেক, সেগুলো খেয়ে খেয়ে এত্তো মোটা হয়ে গেছে! তাদের উড়তেও আলিস্যি! এক হাত উঁচু গাছে বাসা করে বসে আছে এবং অবশ্যই নো বক বকম!
মাঝেমধ্যেই প্যানপ্যান করছি এ ক্যামন দেশরে বাবা! সূর্য নেই, কাক নেই, মানুষের চীৎকার নেই! তবে আছে টা কি!!!!!
বর্ষাকাল আমার খুবই প্রিয়.. আমি তো বর্ষার মেয়ে, তাই বৃষ্টির সাথে আমার খুব আপন সম্পর্ক। কিন্তু এদেশের বৃষ্টিটাও বাজে! এরা অতি সন্তর্পণে ঝরবে! কেন রে বাবা! ঝমঝমিয়ে নাম না একবার!! তা নয়, টিপ টিপ করে পড়ছে। যেন একটু বেশি জোরে বৃষ্টি হলেই মাস্টারমশাই খুব বকে দেবে!
কলকাতায় অফিস যাওয়ার সময় খুব চাইতাম একটু মেঘ করুক, সেইসময় আমি অফিস পৌঁছে যাই টুক করে! আর এখানে চাইছি সূর্য উঠুক অন্তত আজকে! অনন্ত অপেক্ষা তবু সূর্য উঠছে না! সেই কবে ভারতবর্ষে সূর্যের মুখ দেখেছিলাম!
গতকাল গোটা বিশ্বে উল্কাপাত হলো, সবাই দেখলো আমি বাদে!
মেঘাচ্ছন্ন মাইন্জ!
আমার দেশের পেঁয়াজের রংটাও কি সুন্দর...কথাতেই আছে পেঁয়াজী রং! ও বাবা! এ দেশের পেঁয়াজ তো সবুজ!!!!
এতো সবুজের বহর দেখলে আমাদের দিদি ভারী খুশি হতো!
কি ভাগ্যিস গাজরের রংও সবুজ নয়!
এখানে আমি লঙ্কা অবধি মিস করছি... কারণ এরা লঙ্কা খায়না!
যদিও আমার মিস করার তালিকাটা বেশ দীর্ঘ!
সূর্য, পেঁয়াজ,চড়ুই, ফুচকা, বাসের কন্ডাক্টারের চীৎকার, অটোর লাইন, লাল পতাকার বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক স্লোগান, কাকের কা কা এমনকি মমতা ব্যানার্জ্জীকেও!!!
এমন হতচ্ছাড়া দেশ, কাক অবধি চীৎকার করে না!
হোয়াই ম্যান? হোয়াই? হোয়াই?
পায়রা আছে অনেক, সেগুলো খেয়ে খেয়ে এত্তো মোটা হয়ে গেছে! তাদের উড়তেও আলিস্যি! এক হাত উঁচু গাছে বাসা করে বসে আছে এবং অবশ্যই নো বক বকম!
মাঝেমধ্যেই প্যানপ্যান করছি এ ক্যামন দেশরে বাবা! সূর্য নেই, কাক নেই, মানুষের চীৎকার নেই! তবে আছে টা কি!!!!!
কদিন আগে ক্রীসমাস পার্টিতে গেলাম। হাই এনার্জী পার্টিকল ডিপার্টমেন্টের পার্টি! তা সেখানে সবাই বিশেষ জ্ঞানী!
চুনোপুঁটি বিজ্ঞানী থেকে আরম্ভ করে হাইফাই বিজ্ঞানী সবরকমই আছেন সেই পার্টিতে!
সেই পার্টি এমন ....কি আর বলবো! লোকে ফিসফিস করে কথা বলছে! যেন হাসপাতালে এসেছি কিংবা সদ্য সদ্য কেউ মারা গেছে! ইনফ্যাক্ট আমাদের দেশে লোক মারা গেলেও এর থেকে বেশি হৈ চৈ হয়! লোকজন চুপচাপ খেলো... তিনচারজন গিটার, পিয়ানো আর ভায়োলিন বাজালো ব্যস!!!
আমি ভাবলাম আমিই উঠে দুটো রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে দিই!
একি রে বাবা! এটা পার্টি!!! কাঁটা চামচ ছুরির টুংটাং আওয়াজ ছাড়া কিচ্ছু শোনা যাচ্ছে না!
চুনোপুঁটি বিজ্ঞানী থেকে আরম্ভ করে হাইফাই বিজ্ঞানী সবরকমই আছেন সেই পার্টিতে!
সেই পার্টি এমন ....কি আর বলবো! লোকে ফিসফিস করে কথা বলছে! যেন হাসপাতালে এসেছি কিংবা সদ্য সদ্য কেউ মারা গেছে! ইনফ্যাক্ট আমাদের দেশে লোক মারা গেলেও এর থেকে বেশি হৈ চৈ হয়! লোকজন চুপচাপ খেলো... তিনচারজন গিটার, পিয়ানো আর ভায়োলিন বাজালো ব্যস!!!
আমি ভাবলাম আমিই উঠে দুটো রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে দিই!
একি রে বাবা! এটা পার্টি!!! কাঁটা চামচ ছুরির টুংটাং আওয়াজ ছাড়া কিচ্ছু শোনা যাচ্ছে না!
সাড়ে আটটায় সকাল হয়ে চারটেই সন্ধ্যে! আমি ঘুম থেকে উঠতে না উঠতে দিন শেষ!
জানালা দিয়ে তাকাবো কি! শুধুই বৃষ্টি! কাঁহাতক আর “শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে” গাওয়া যায়!!!
সবথেকে অসুবিধা হলো কথা বলা! এরা ইংরাজী বোঝে না, বলেও না! এ এক মহা জ্বালা! কথা না বলে বলে পেট ফেঁপে যাচ্ছে!
সূর্য নেই, কাক নেই, চড়ুই নেই...গাড়ির হর্ণ নেই!
নিস্তব্ধ চরাচর... টিপটিপ পা টিপে চলা বৃষ্টির দেশ।
জানালা দিয়ে তাকাবো কি! শুধুই বৃষ্টি! কাঁহাতক আর “শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে” গাওয়া যায়!!!
সবথেকে অসুবিধা হলো কথা বলা! এরা ইংরাজী বোঝে না, বলেও না! এ এক মহা জ্বালা! কথা না বলে বলে পেট ফেঁপে যাচ্ছে!
সূর্য নেই, কাক নেই, চড়ুই নেই...গাড়ির হর্ণ নেই!
নিস্তব্ধ চরাচর... টিপটিপ পা টিপে চলা বৃষ্টির দেশ।
Subscribe to:
Posts (Atom)