Monday, 28 September 2015

প্রস্ফুটিত গোলাপ

কতদিন পরে আমার পুরো নাম মানে পিতৃদত্ত নাম টা ব্যবহার করলাম। সেই কবে প্রতিযোগীতা গুলোতে পুরো নাম লিখতাম, কাজী ফারহা ইয়াসমিন।
যখন পুরস্কারের জন্য পুরো নাম ঘোষিত হতো, কি ভালোই না লাগতো। আমিই তারপর নামটা কাটাছেঁড়া করে কখনো ফারহা ইয়াসমিন কখনো বা ফারহা কাজী লিখতে শুরু করি। কিন্তু আমার পুরো নাম ছাড়া আমি যে ভীষন ভাবে অপূর্ণ আজকেই হঠাৎ মনে হল। মেয়েরা বড়ো হয়ে গেলে বোধহয় বাবা দেওয়া সব কিছুর প্রতিই ভীষণ ভাবে টান অনুভব করে। আসলে একসময় তাকে সব ছেড়ে চলে যেতে হয় বলেই হয়তো এই রকম মনে হয়। আমার ক্ষেত্রে নাম তো পরিবর্তন হওয়ার ছিলো না, আমিই স্বইচ্ছায় ইসকুল জীবনে ত্যাগ করেছিলাম পিতৃদত্ত পদবী। এখন হঠাৎই নিজের মন খারাপ লাগছে। আমার নামটা আম্মুর দেওয়া আর আমার নামটা আমার ভীষন পি্রয় ।
ফারহা ইয়াসমিন -- প্রস্ফুটিত গোলাপ।

ভারতের উন্নতি এবার ঠেকায় কে?

একটা জিনিস মোটামুটি প্রমানিত , আমরা মানে ভারতীয়দের দেশপে্রমের চুলকানি বাড়ে একমাত্র পাকিস্তানের প্রসঙ্গে। কি ভাগ্যিস পাকিস্তান ছিল, নইলে এত দেশপে্রমীদের খুঁজে পাওয়ায় যেতো না। একটা ধন্যবাদ তো এই জন্য অবশ্যই প্রাপ্য পাকিস্তানের। এদের অবশ্য দেশের সমস্যা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত হতে দেখা যায় না। যেমন ধরো, সম্প্রতি কালের শ্রমিক বিল নিয়ে কেউ চিন্তিতই নয়, আরে ধুর ঐসব ছোটোলোক নোংরা লোকেদের নিয়ে কে ভাবে? কি হবে দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক below poverty line এর নিচে আছে ভেবে? কি হবে এটা ভেবে যে টাকার দাম কমছে। অথবা 40% মানুষের বাড়িতে শৌচাগার নেই। শালা , এসব নিয়ে কোন গাধা ভাবে বা জানার চেষ্টা করে? তার থেকে অনেক বেশি দরকারি পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণা উগরিয়ে নিজেকে মহান দেশপে্রমী প্রমাণ করা। আমি আবার খুব একটা দেশপে্রমী নই, আমার কাছে পাকিস্তানের থেকেও ঢের বেশী ঘৃণার পাত্র বি্রটেন, যে আমাদের দেশটাতে সাম্প্রদায়িকতার বীজ পুঁতে দিয়ে গেছে, আমি ঢের বেশি ঘৃণা করি আমেরিকাকে যে কিনা নিজের দেশের অর্থনীতি মজবুত করার জন্য দেশ গুলোর মধে্য যুদ্ধ লাগায়। দেশ ভাগের পরেই সব বেইমানগুলো পাকিস্তান আর বাংলাদেশ চলে গেছিল, এখন তো আবার মোদির আচ্ছে দিন এসে গেছে, কৃষক আত্মহত্যার থেকে অনেক বেশি দরকারি কার্গিল যুদ্ধের বিজয়দিবস পালন। জনসংখ্যা গণনা হচ্ছে ধর্মের উপর ভিত্তি করে, তখন আবার এই দেশপে্রমীদের বক্তব্য বির্তকিত বিষয় নিয়ে আলোচনা বাপু পোষায় না। আমার ভারতের উন্নতি এবার ঠেকায় কে?

টক ও না , ঝাল ও না

জাম্বুরা বলে একটা ফল হয়, কেউ কি সেটা জানো? এটা আসলে আমাদের খুব একটা চেনা ফল। এটাকে আমরা সবাই বাতাবি লেবু বলেই চিনি। বাংলাদেশের মানুষরা বাতাবি লেবুকে জাম্বুরা ফল বলে। গোলাপি রঙের টক মিষ্টি ফলটি গোলমরিচ, বিটনুন, লবণ , মরিচ, ধনেপাতা সহযোগে খেতে অসাধারণ।
স্থান কাল বিশেষে ভাষার তারতম্য বাংলার জেলায় জেলায় দেখা যায়। যেমন ধরো বর্ধমান, বাঁকুড়ার গ্রাম গুলোতে পেয়ারাকে আঞ্জির বলে। আবার বীরভূমে এই পেয়ারাকেই আমসুপুরি বলে। আমার মামার বাড়ি বাঁকুড়াতে বেদানাকে ডালিম বলা হয়। এই ডালিম কথাটা শুনলেই আমার একটা ছোটোবেলায় পড়া রূপকথায় পড়া রাজকুমারের কথা মনে পড়ে । সেই যে ছিল না? একটা রাজপুত্র জন্মালো রানীর কোল আলো করে। ডালিম ফুলের মতো তার গায়ের রং। ডাইনির অভিশাপে দিনের বেলা ডালিম ফুল হয়ে যায় সে , আর রাতের বেলা মানব শিশু। ছোটোবেলায় আমি ভাবতাম আমিও বোধহয় কোনো রাজকুমারী। এত্তো মিষ্টি একটা মেয়ে রাজকুমারী না হয়ে যায়ই না। 
কিন্তু পরে রিয়ালাইজ করলাম আমি রাজকুমারী বটে, তবে মিষ্টি মোটেই নয়। সাংঘাতিক টক ঝাল ।

এ কোন স্বাধীনতা?

আনন্দবাজারে প্রকাশিত "রিফিউজি" নামে লেখাতে একজন না বাংলাদেশী না ভারতীয় বাঙালির আক্ষেপ
'কী একটা দেশভাগ হল! বলতেন, দেখ, আমি আমার জন্মভূমিকে ভারত, পূর্ব পাকিস্তান আর বাংলাদেশ— এই তিনটে নামে দেখলাম।'
কষ্ট হল। দেশভাগটার সত্যিই কি খুব দরকার ছিল? আমার নানাভাই, নানিজান এবং অজস্র আত্মীয়দের সাথে দেখা করতে পাসপোর্ট লাগবে কেন? কেন ওপার বাংলার অজস্র লোকের জন্মভূমি ভারত হওয়া সত্বেও এবং এপার বাংলার অগুনতি লোকের জন্মভূমি পূর্ব বাংলা হওয়া সত্বেও নিজ জন্মভূমিতে নিজের ইচ্ছেমত পা রাখতে পারবে না?
জন্মভূমির টান কি অগ্রাহ্য করা যায়? বোধহয় কখনোই নয়, নইলে আশি বর্ষীয়া আমার আম্মুর ফুফুমনি আমার নানিজান কেন কাঁদেন ভারতে আসার জন্য? একটাই কারন , সেটা হল
জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপী গরীয়সী।
কষ্ট হয়। এই অদ্ভূত স্বাধীনতা বোধহয় কেউ চায়নি। এই কষ্ট মেটবার নয় বোধহয়। একটা জাতিকে ভেঙে দুটুকরো করে মেরুদন্ডটাই ভেঙে দেওয়া কোন স্বাধীনতা?

মন ভালো করা মূহুর্তরা হঠাৎ করেই আসে

অফিস যেতে বরাবরই আমাকে অনেক এনার্জি খরচ করতে হয়। সকালে কোনোদিনই উঠতে পারি না আমি, বেলা এগারটা বারোটায় উঠে আমি মনকে প্রস্তুত করতে থাকি অফিস যাওয়ার জন্য। এখনতো বড়ো হয়ে গেছি আমি (যদিও সবাই বলে বয়সটাই বেড়েছে শুধু, মনের দিক থেকে সেই পুঁচকি পিউ টাই আছে। আরে আফটার অল বয়স শুধু সংখ্যা মাত্র , মনটা সজীব রাখা খুব দরকার জীবনে। নইলে পাখি , ফুল এমনি রাস্তার কুকুরটা দেখেও আনন্দ কে পাবে বলোতো? ) তাই কেউ বলার নেই, পিউমনি গো উঠে পর মা, ইসকুল আছে। তাই নিজে নিজেই উঠে পড়ি আমি। তাপ্পর নিজেই নিজেকে বলি....... পিউমনি উঠে পড়। অফিস যেতে হবে।
না .... আর একটু ঘুমাই.... প্লীজ।
এরপর কিন্তু দেরী হয়ে যাবে আর তখন কিন্তু কেউ বাঁচাতে পারবে না তোমায়।
অনেক কষ্টে চোখ মেলে উঠে অফিস যাওয়ার জন্য তৈরী হতে থাকি আমি । এটাই আমার দৈনন্দিন একঘেয়ে জীবন।
আজকেও কষ্ট করে উঠে অফিস রওনা দিলাম। মনটা আজকে বেশ খারাপ। আসলেই ভীষণ রকম খারাপ।

জীবনে যত মনখারাপ কাছের মানুষের কাছেই তুমি পাবে। যতই ভালবাসো, একসময় না একসময় দুঃখ পাবেই। এটাই জগতের নিয়ম। আসলে কাছের মানুষগুলোর কাছে প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে আমাদের। আর সেটা পূর্ণ করা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এটা প্রতিটা মানুষের জন্য প্রযোজ্য । যখন তুমি সেই কাছের মানুষগুলো থেকে একদিন দূরে চলে যাবে , তখন তোমার মনে পরবে এক একটা মূহুর্ত। তখন তুমিও কষ্ট পাবে। জীবন এই ভাবেই সব কিছুর হিসেব রাখে।
বাসে বেশ ভীড় ছিল । খানিক পরে বসতে জায়গা পেয়ে মোবাইলটা বের করে ফেসবুকটা খুলে দেখছি । আমি খুব বেশি ফোন অ্যাডিক্টেড। চেষ্টা করেও দূরে থাকতে পারিনা। জানি পারবো না, তবু মাঝেমধ্যেই চেষ্টা করি । খানিকক্ষণ পরে আমার মনে হল কেমন যেন একটা অনুভূতি হচ্ছে। অতি চেনা কোনো অনুভূতি।
মেয়েরা অনেক অদ্ভূত ক্ষমতা নিয়ে পৃথিবীতে আসে। প্রকৃতি তাদের এই ক্ষমতাগুলো দিয়েছে অবস্হার মোকাবিলা করার জন্য। কেউ কখনো তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকলে মেয়েরা ঠিকক বুঝতে পারে।
তাকিয়ে দেখলাম একটা বেশ সুন্দর দেখতে ছেলে আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। বেশ অহঙ্কারের সাথে একবার তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলাম ।
অদ্ভূত ক্ষমতাগুলির মধ্যে একটি হল মেয়েরা চট করে কোনো ব্যাপার থেকো নিজের মনকে ডাইভার্ট করতে পারে না।
ব্যাস! আরকি। আমিও লুকিয়ে চুরিয়ে দেখতে শুরু করলাম ছেলেটাকে। এটাকেই কি ঝারি মারা বলে? কে জানে!!
যখনই তাকিয়ে দেখি, ছেলেটা আমার দিকেই তাকিয়ে থাকে।
আজব সমস্যা।
তারপর আমি একটু রেগেই ভীষণ কুঁচকে তাকালাম ওর দিকে।
ওমা, দেখি সেও ভ্রু কুঁচকে তাকাচ্ছে।
ভীষণ ভীষণ রাগ হল। আমার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকানো!! এত্তো সাহস?
দিলাম বেশ করে ভেংচি কেটে। আহা কতদিন ভেংচি কাটি না। ভারি আনন্দ হল। ছেলেটা কিন্তু মহা টেঁটিয়া। সেই তাকিয়েই থাকল আমার দিকে। আমিও আড়চোখে দেখতে থাকলাম। বাসে আরতির গান বাজছিল। একসময় বেজে উঠল 'চোখে চোখে কথা বলো , মুখে কিছু বলো না'।
আমি আর থাকতে পারলাম না, হেসেই ফেল্লাম। আমাকে হাসতে দেখে ছেলেটা বেশ ঘাবড়ে কাঁচুমাচু মুখ করে তাকাচ্ছে। নারকেল বাগান আসতেই ছেলেটা নেমে গেল।
আমি জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছি।মন বলছে ১০০ পার্সেন্ট ছেলেটা একবার পিছন ঘুরে তাকাবেই।
শাহরুখ খানের মুভির সেই দৃশ্যের মতো 'পালাট, পালাট '। একটু এগিয়ে যাওয়ার পর ছেলেটা পিছনে ঘুরে তাকালো। এবার আমি হাসলাম... রাগ করে নয়। মন থেকে হাসি। আমার মন ভালো করার জন্য এটুকু তো অবশ্যই প্রাপ্য।
বাইরে তখন মেঘের ফাঁকে রোদ হাসছে , আমার মতোই।

Wednesday, 12 August 2015

খুশির ঈদ

ঈদ আসছে। খুশির ঈদ। আমিও খুশি। তবে এখন বড়ো হয়ে গেছি। এখন আগের মতো খুশি হয়না। ইসকুল থেকে আসার সময় যেদিন প্যান্ডেলের প্রথম বাঁশটা দেখতে পেতাম, মনটা আনন্দে ভরে উঠত। লাফাতে লাফাতে বাড়ি আসতাম। প্রথম রোজা যেদিন শুরু হতো সেদিন থেকেই নিউ-য়ের বায়না শুরু হতো। কবে যাব ঈদের বাজার করতে। আম্মু বলতো আজ যাব কাল যাব। তারপর আম্মু একদিন বেরোতো বাজার করতে.. অনেক দোকান ঘুরে সুন্দর অথচ সস্তা জামা কাপড় কিনে বাড়ি ফিরতো। এক-একবার দেরি হয়ে যেতো। পাড়ার মোম্স্ , মিমন, জুঁই দের শপিং শেষ, অথচ আমাদের হয়নি। কি অবস্থা। আসলে আব্বু হয়তো টাকা জোগাড় করতে পারেনি। অন্য সকলের আব্বুর মতো আমার আব্বুর তো চাকরি ছিল না, তাই মাসের শেষে টাকা আসবেই তার গ্যারান্টি ছিলো না। সে কথা তো তখন বুঝতে পারতাম না। টাকা পয়সার টানাটানি হলেও কোনোদিন টের পেতাম না, আব্বু আম্মু কোনোদিন টেরই পেতে দেয়নি। তাই দেরি হলে চিন্তা করতাম এবারে মনে হয় ভালো জামাটা কেনা হবে না, কারন রোজার শেষের দিকে সবার শপিং যখন শেষ, তখন তো ভালো জিনিস টা আর থাকবেই না। কিন্তু দেরি হলেও প্রতিবার পছন্দসই জামাটাই পেতাম। সাথে ম্যাচিং জুতো, ম্যাচিং ক্লীপ। সে কি আনন্দ। বাড়িতে যেই আসতো উৎসাহ ভরে দেখাতাম নতুন কেনা জামা কাপড়। আব্বুআম্মু একটা জামা দিতো আর দাদাভাই একটা। দুটো জামা হতো। যদ্দিন দাদাভাই বেঁচে ছিল ঈদে দুটো করে জামা হতো। ছোটো বেলা থেকেই একটা জিনিস নিয়ে আমার দুঃখ ছিল, আমার চাচা বা কাকু ছিল না। আমার আব্বু একটাই ছেলে। চাচু বা কাকু থাকলে আমাদেরও তিনটে চারটে নূতন জামা হত। আমাদের আশে পাশে সবার চাচা কাকা ছিলো। সবাই ঈদের জামা কাপড় দেখানোর সময় বলতো এটা আমার বড়ো চাচু দিয়েছে, এটা ছোটো চাচু। আর আমাদের তো শুধু আব্বু আছে, তাই অতোগুলো হতো না। আমার মনে হত ইস্ আমার কেন চাচু নেই। অ্যাটলিস্ট একটাও হতো। আমার বড়ো দাদাও নেই যে আমাকে শপিং করাবে, তাই যে বছর আবিদ ভাইয়া আমাকে ঈদের জন্য নূতন জামা কিনে দিয়েছিল লাইফ স্টাইল থেকে আমি প্রচুর খুশি হয়েছিলাম। মনে হয়েছিল ইস আমারো একটা বড়ো ভাই আছে তবে।
আমরা যখন দুঃখ করতাম আমাদের মোটে একটা জামা। তখন আম্মু আব্বু আমাদের একটাই কথা বলতো, তোমাদের তো একটাও নূতন জামা হচ্ছে। এমন অনেকে আছে যাদের একটাও জামা কাপড় হয়না। তাদের কথা ভেবে কখনো দেখবে। সতি্যই তো! যাদের একটাও জামা হয়না, কত খারাপ লাগে তাদের। তাদেরও তো ইচ্ছে হয় একটা নতুন জামার!
ঈদের সময় আমাদের বাড়ি থেকে কোনদিন কোনো গরীব মানুষকে খালি হাতে ফিরতে দেখিনি, একমাস আগে থেকে লোকজন আসতে থাকে নূতন জামা কাপড়ের আশায়, টাকা পয়সার আশায়। সবাই কিছুনা কিছু পায়।
আব্বু আম্মু কোনোদিন কোনো অবস্থাতেই তাদের খালি হাতে ফেরায়নি, এমনকি আর্থিক সমস্যার দিনেও খালি হাতে কেউ যায়নি। আব্বু আম্মু কিন্তু ঈদে নূতন জামা কাপড় কখনো কিনতো না, মামারা কখনো দিলে আলাদা কথা। এখন তো বড়ো হয়ে গেছি, এখন আর আব্বু আম্মুরা নূতন জামা কিনে দেয় না, এখন আমরা দুই বোনই আম্মু হয়ে গেছি, আমরাই জামা কাপড় কিনে দিই আব্বুআম্মুকে ।
আমরা দুই বোন দুই বোনকে নূতন জামা কিনে দিই। আমরাই আমাদের চাচু, কাকু, ফুফুমনি, বোন, বন্ধু সব।
নিউ আর কচি তোদেরকে আমি অনেক ভালোবাসি। বলতে পারি না। তাই লিখলাম। তোদেরকে অনেক সময় হার্ট করে ফেলি। আসলে যাদের আমরা ভালোবাসি তাদেরকেই সবথেকে দুঃখ দিই।
I Am sorry and I love you!
তোরা ছাড়া কেউ কি আছে আমার? আমরা একে অপরের পরিপূরক, দুঃখ আনন্দের সাথী। আবিদ ভাইয়া তোমাকেও আমি ভীষণ ভালোবাসি, তুমি কি জানো তুমি আমার দেখা সেরা পে্রমিক।
এই ঈদে আমরা সবাই আনন্দ করবো সব খারাপ লাগা ভুলে।
সবাই ভালো থাকুক, সাথে আমরাও।
কচি কচি সব মন ঈদে একটা হলেও যেন নূতন জামা পায়। হে আল্লাহ্পাক , আমি নামাজ, রোজা করিনা কিন্তু তোমাকে বিশ্বাস করি, আর বিশ্বাস রাখি মানুষের উপর। আমরা কি পারি না প্রতে্যকে একজন করে হলেও যেন একটা শিশু, গরীব মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে? নিশ্চয়ই পারি।
সবাই খুশি থাকুক আর আনন্দে থাকুক।
ঈদ আসছে। আর সাতটা দিন বাকি।
লাচ্ছা, সিমাই, ফিরনি, বিরিয়ানি, নতুন জামা, আতরের গন্ধে ম ম খুশির ঈদ।

হু হু বাবা জানো না তো আমার ক্ষ্যামতা।

প্রবলেমের সাথে আমার মিতালি জন্ম থেকেই। আমার জীবনে কোনো কাজ সুষ্ঠু ভাবে হলোনা। আল্লাহমিঞা আমার লাইফে সমস্যাকে লেজুড় হিসেবে জুড়ে দিয়েছে। টেনশন নিয়ে নিয়ে এই বয়সেই মাথার চারটে চুল পেকে গেছে, বাকি গুলোও যে কোনদিন নির্বাণ লাভ করতে পারে। যেদিন কোনো সমস্যা থাকে না সেদিন চিন্তায় পড়ে যাই, হলো কি? আল্লাহমিঞার শরীর ঠিক আছে তো! আজ আমার লাইফ এতো স্মুদলি কাটলো কি ভাবে।
সেদিনকেও টেনশন একটুস কম ছিল, মনে মনে ভাবছিলুম আজকে ছোটো খাটো সমস্যার উপর দিয়ে গেছে বাবা! একদম টেনশন ছাড়া দিনও নয়, আবার খুব বেশি টেনশনও ছিল না।
কিন্তু কোথায় কি! আমার লাইফ এতো নিস্তরঙ্গ হতেই পারে না!
ফ্ল্যাটে ফিরেই আমার রুমে দেখি অদ্ভুত আওয়াজ, কেমন হড়পা বান আসার শব্দ। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখলাম অ্যাটাচ্ড বাথরুম আওয়াজের উৎস। তারপর দেখলাম বাথরুমের জল নিকাশীর পাইপ হতে হড়হড় করে জল ঢুকছে। কি মুসিবত! ফ্ল্যাটে সেদিন ভাই ছিলো, তাকে বলতে সে বললে জল ঢুকছে তো আমি কি করব! সত্যিই তো, ও কি করবে! আদরে বাঁদর হয়েছে একটা।
অগত্যা আমিই গেলাম সিকিউরিটির কাছে, তাকে গিয়ে বললাম সমস্যার কথা। তিনি বললেন পরের দিন ব্যাপারটা সরেজমিনে তদন্ত নিশ্চয়ই করবেন। কিন্তু ঐ যে আমি , কিছুতেই ভরসা করতে পারি না। অতএব তাকে বগলদাবা করে চল্লুম আমাদের ফ্ল্যাটে। ফ্ল্যাটের নিচে আসতেই হড়হড় করে জলের শব্দ । সিকিউরিটি ব্যাপারটার গুরুত্ব অনুধাবন করে বললো কেউ বোধহয় ভুলবশত জলের কল খুলে রেখেছে। অতএব কে এই ভুলটা করেছে সেই নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেল উপরের ফ্ল্যাটে কেউ নেই, অতএব যা কিছু হয়েছে ছাতেই হয়েছে। দুজন মিলে ছাতে গিয়ে দেখলাম চারিদিকে জল থইথই। পাইপের জয়েন্ট খুলে গেছে, হড়হড় করে জল বেরোচ্ছে। এই ভাবে চললে কিছুক্ষণের মধে্যই ট্যাঙ্ক থেকে সব জল বেরিয়ে যাবে আর সারারাত জলের সমস্যা নিয়ে কাটাতে হবে। সিকিউরিটি সব কিছু দেখে শুনে বললো
আজকের মতো জল স্টোর করে রাখুন।কাল সকালে দেখা যাবে।
শুনেই আমি ভীষণ ক্ষেপে গিয়ে বললাম অদ্ভূত কথা বলছেন তো! আমি এখন অতো বালতি পাবো কোথায়? আপনি দেবেন? সারারাত কি বিনা জলে কাটাবো? খাওয়ার জল অবধি নেই বাড়িতে। আপনি কিছু একটা ব্যবস্থা করুন, দরকার পড়লে প্রোমোটারকে ফোন করুন, কিন্তু আজকেই করতে যা করার করতে হবে, নইলে আমাকে বালতি দিতে হবে। বেচারা সিকিউরিটি টেনশনে, বালতির জন্য। প্রোমোটারকে ফোন করে বিশেষ লাভ হলনা, সে ব্যাটা মহা বদ, পয়সা ছাড়া কিছু বোঝে না। অবশেষে আমিই প্লাম্বারকে ফোন করলাম, তাকে অনুরোধ করেও লাভ হলনা, অতএব তাকে আচ্ছাসে ঝেড়ে ফোনটা রেখে দিলাম। সিকিউরিটি বেচারা কাঁচুমাচু মুখ করে আমাকে বললো দেখছেন তো আপনার কথাই শুনলে না, আমাদের তো পাত্তায় দেয় না।
শুনে বেশ রাগ হলো আমার। ভেবেছে কি আমাকে, চেনে না তো আমি কি জিনিষ। দরকার পরলে জুতো সেলাই থেকে চন্ডী পাঠ সব করতে পারি, তার উপর ইঞ্জিনিয়ার , এক রাতে সিলেবাস শেষ করে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে গেলাম তো সামান্য এই পাইপ সমস্যার সমাধান করতে পারবো না? যেমন ভাবা তেমন কাজ, অমনি কাজে লেগে পরলাম।
পাইপের ভাল্ভ বন্ধ করে জলের ফোর্স কমিয়ে খুলে যাওয়া পাইপের অংশটুকু লাগিয়ে কাপড়, দড়ি ইত্যাদি দিয়ে বেশ ভালো করে আটকে সেদিন রাতের মতো ব্যবস্থা হলো। যদি প্লাম্বিং এর জিনিষ পত্র থাকতো তবে ঐ হতচ্ছাড়া প্লাম্বারের অহংকার চূর্ণ করে করে প্লাম্বিংয়ের ব্যবসা খুলতাম। মিস্ত্রী পেশার পর প্লাম্বিং পেশাটাও হাতে রইল। আহা চাকরি বাকরি চলে গেলে করে কম্মে খেতে পারবো।
মাঝেমধ্যে ভাবি আর নিজেই খুশি হয়ে যাই, আমার মধে্য কি অপরিসীম প্রতিভা। শুধু বেলা এগারোটার আগে ঘুম থেকে উঠতে পারি না তাই, নইলে দেখিয়ে দিতুম আরকি।
প্রতিভার বিচ্ছুরন, একদম পি্রজমের ভিতর আলো যাওয়ার মতো।